Kanchenjunga: বোধনের আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘা! দেরিতে দেখা মিলতেই, উঠছে পাহাড়ের দূষণ নিয়ে বড় প্রশ্ন
শিলিগুড়ি: পুজোর মরশুম মানেই বাঙালির মনে একরাশ আনন্দ আর শারদীয়া আমেজ। আর চতুর্থীর সকালেই সেই উচ্ছ্বাসকে দ্বিগুণ করে দিল শিলিগুড়ির আকাশে জেগে ওঠা শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। ঘুম থেকে উঠে বা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নীল আকাশের ক্যানভাসে ঝকঝকে ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’কে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আপ্লুত শিলিগুড়িবাসী। কেউ উড়ালপুলের ওপর দাঁড়িয়ে, কেউ বা ব্যস্ততার মাঝেও ক্যামেরা বন্দি করলেন সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। তবে এই অপার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে দানা বেঁধেছে এক গভীর আশঙ্কা। এ বছর এত দেরিতে কেন দেখা মিলল কাঞ্চনজঙ্ঘার? তবে কি লাগাতার দূষণ আর পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষাক্ত ছোবলে ধীরে ধীরে তার চিরচেনা রূপ হারাচ্ছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়?গত কয়েক মাস ধরে একটানা বর্ষা এবং একের পর এক নিম্নচাপের জেরে পাহাড়ের আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। ফলে দীর্ঘদিন কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলেনি, আর বহু পর্যটক মন খারাপ করে পাহাড় থেকে ফিরেছেন। তবে বুধবার চতুর্থীর সকালে হঠাৎ করেই মেঘ কেটে আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হতেই শিলিগুড়ি ও কালিম্পংয়ের বুক থেকে মূর্ত হয়ে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শিলিগুড়ির এক প্রাতঃভ্রমণকারী উতোলস কণ্ঠে বললেন, “প্রতিদিনই তো হাঁটতে আসি, কিন্তু আজকের সকালটা একেবারে জাদুকরি। মেঘহীন আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখে মন ভরে গেল।”কিন্তু এই দেরিতে দর্শন মেলার নেপথ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক নির্মম সত্য। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্ষার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এর একটা কারণ হলেও, সাম্প্রতিককালে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন পাহাড়ি পাদদেশীয় অঞ্চলে লাফিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ এবং ধূলিকণার মাত্রা। শিলিগুড়ি ও সিকিম সংযোগকারী জাতীয় সড়কে যানবহনের মাত্রাতিরিক্ত ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বা ‘পার্টিগুলেট ম্যাটার’-এর পুরু আস্তরণ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ সময়েও আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ও মলিন থাকছে, যা কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো বরফাবৃত শৃঙ্গ দেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুজোর আগে প্রাক-শীতের হালকা হাওয়া এবং বৃষ্টির জেরে বুধবার বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হওয়ায় হঠাৎ করেই এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। কিন্তু যেভাবে উত্তরবঙ্গের পরিবেশ ও পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্রে দূষণের কালো ছায়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘার এই ঝকঝকে রূপ দেখার সৌভাগ্য হয়তো আরও কমবে। পুজোয় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় মন ভালো হলেও, পাহাড়ের ভবিষ্যৎ ও ক্রমবর্ধমান দূষণ নিয়ে এই দেরিতে দর্শন বড়সড় সঙ্কেত দিয়ে গেল বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।