Weather Today: কলকাতায় শুরু ‘আগাম শীতের’ আমেজ? বৃষ্টির দাপটে হু-হু করে নামল পারদ, পুজোর আগেই আবহাওয়ায় বড় ইঙ্গিত!
কলকাতা: সেপ্টেম্বর শেষ হতে চললেও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বিভ্রান্ত রাজ্যবাসী। কিন্তু এর মাঝেই এক অদ্ভুত অনুভূতির সাক্ষী থাকছে তিলোত্তমা। একদিকে টানা শ্রাবণধারা, অন্যদিকে আচমকা থার্মোমিটারের পারদ পতন! দিন ও রাতের তাপমাত্রা একধাক্কায় স্বাভাবিকের থেকে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ায় বঙ্গবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন, তবে কি পুজোর আগেই এবার অকাল শীতের আগমন বার্তা?বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি কম, মাত্র ২৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও নেমে দাঁড়িয়েছিল স্বাভাবিকের নিচে, ২৫.৯ ডিগ্রিতে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৯৭ শতাংশ ছোঁওয়ায় দিনের বেলাতেও এক অদ্ভুত হিমেল ও মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, হঠাৎ পারদের এই পতন শীতের আগাম আভাস কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সর্বত্র।যদিও এই ঠান্ডা আমেজের নেপথ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করার পর গভীর নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে তা আরও শক্তিক্ষয় করবে। তবে এর প্রভাবে শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দফায় দফায় মুষলধারে বৃষ্টি চলেছে।আজ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে মৎস্যজীবীদের শুক্রবার পর্যন্ত জলে নামতে বারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই দিঘার সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়েছে এক ১৪ বছরের কিশোরী।উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট কম নয়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমবে। তবে সেপ্টেম্বর শেষের এই আচমকা শীতল আবহাওয়া ও বৃষ্টির যুগলবন্দি পুজোর মুখে বঙ্গবাসীকে শীতের আমেজ উপহার দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।