মেদিনীপুর: পিসির বাড়ি রওনা হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ভোররাতের মেগা অভিযানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। আচমকা খড়গপুরের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করল পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বর্তমান সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতিকে। শুক্রবার ভোররাতের এই নাটকীয় ঘটনার পর তাঁকে খড়গপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীকালে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করে ডেবরা থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। তৃণমূলের দাপুটে এই বর্ষীয়ান নেতার আকস্মিক গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে গোটা জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে। কী কারণে কিংবা ঠিক কোন পুরনো মামলার ভিত্তিতে পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা অজিত মাইতির। অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পদে শক্ত হাতে সংগঠন সামলেছেন তিনি। নির্বাচনে জিতে পিংলা কেন্দ্র থেকে বিধায়কও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে খড়গপুরের বাসভবনেই ছিলেন তিনি। শুক্রবার ভোররাতে হঠাৎই সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় খড়গপুর থানার একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপর সেখান থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকেই। প্রাথমিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বহু পুরনো একটি মামলার সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, যদিও মামলার বিস্তারিত বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে বিরোধীদের গভীর ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুত ঘোষ। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ তুলে জানান, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অজিত মাইতির আজ সকালেই কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যাওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার কয়েক মুহূর্ত আগেই ভোররাতে গিয়ে তাঁকে এভাবে গ্রেপ্তার করার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। এখন দেখার, কোন পুরানো মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিল এবং এই হাইভোল্টেজ গ্রেপ্তারি রাজ্য রাজনীতিতে কী মোড় নেয়।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন