Messi : এক ফ্রিকিকে অবিশ্বাস্য গোল, মেসি ম্যাজিকে মোহিত মিয়ামি, শেষরক্ষা হল না!
মিয়ামি: ফুটবল মাঠে তিনি যে কোনও মুহূর্তকে শিল্পে রূপান্তর করতে পারেন, তা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্লাব ফুটবল, যে কোনও মানচিত্রেই সত্য। কিন্তু সোমবার কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে লিওনেল মেসি যা করে দেখালেন, তা স্রেফ বিস্ময়কর বললেও ভুল হবে। এমএলএসের সমীকরণে ইন্টার মিয়ামি ম্যাচটি হারলেও, মাঠের সব আলো কেড়ে নিল ‘এলএম১০’-এর সেই অলৌকিক মুহূর্ত। এক অসম্ভব কোণ থেকে নেওয়া একক ফ্রিকিকে যে গোলের জন্ম দিলেন তিনি, তাতে মুহূর্তে মোহিত হয়ে গেল পুরো মিয়ামি, স্তম্ভিত গোটা ফুটবল বিশ্ব।আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে নিজের কেরিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছে গিয়েছেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ের সুর বাজলেও, এমএলএসে তিনি যেন একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন মিয়ামির ফুটবল আবেগ। সোমবারের ম্যাচে শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল মায়ামি। ২৮ মিনিটে জোসেফ মার্টিনেজের পেনাল্টি থেকে গোল করে কলম্বাসকে এগিয়ে দেন। কিন্তু ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ঘটল সেই অবিস্মরণীয় ঘটনা।বক্সের ডান দিকে, প্রায় কর্নার ফ্ল্যাগের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্রিকিক পেয়েছিল ইন্টার মিয়ামি। যেখানে সাধারণ যে কোনও ফুটবলার বক্সে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে ভেসে আসা ক্রস বাড়াতেন, সেখানে মেসি বেছে নিলেন মানব মস্তিষ্কের ভাবনার বাইরের কোনও এক পথ। ডান পায়ের সুইংয়ে বাঁক খাওয়ানো শটে বল সরাসরি পাঠালেন ফার পোস্টের দিকে। কলম্বাসের গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্ট থেকে শুরু করে নিজের সতীর্থ, সবাইকে হতবাক করে দিয়ে বল আছড়ে পড়ল সোজা জালে! যে কোণ থেকে গোল করা অসম্ভব বলে ধরে নেওয়া হয়, সেখান থেকেই বল জালে জড়িয়ে ১-১ করলেন ফুটবলের জাদুকর। নেটপাড়ায় মুহূতেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই 'ইম্পসিবল' ফ্রিকিকের ভিডিও।ইন্টার মিয়ামির গোলাপি জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১২তম সরাসরি ফ্রিকিক গোল, আর চলতি মরসুমে ষষ্ঠ। একই সঙ্গে চলতি মেজর লিগ সকারে তাঁর গোলসংখ্যা গিয়ে পৌঁছাল ২১। যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রেখেছে। শুধু তা-ই নয়, এটা ছিল তাঁর পেশাদার ফুটবল কেরিয়ারের ৭৬তম ফ্রিকিক গোল। ফলে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফ্রিকিক সংগ্রাহক ব্রাজিলের মার্সেলিনহো কারিওকার (৭৮টি) থেকে মাত্র ২-৩ কদম দূরে দাঁড়িয়ে এখন আর্জেন্টাইন রাজপুত্র।তবে মেসির এই জাদুকরি মুহূর্তের শেষটা মিষ্টি হলো না ইন্টার মিয়ামির জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে মিয়ামির বদলি ফুটবলার ডেভিড আয়ালার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপরই ম্যাচের মেজাজ পাল্টে যায়। মিয়ামির অন্য এক বদলি খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনে নেমে আসে দল। মিয়ামির এই চরম অসাবধানতা ও রক্ষণভাগের জোড়া ভুলের সুযোগ নিয়ে ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোলটি তুলে নেয় কলম্বাস। কলম্বাসের শট মিয়ামি গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভোর হাত ফসকে বেরোতেই জামাল থিয়ারে বল জালে জড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।এই হারের পর ৭ ম্যাচ বাকি থাকতে শীর্ষ স্থানে থাকা ন্যাশভিলের থেকে ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানেই থমকে রইল মিয়ামি। তবে পয়েন্টের হিসেব বা লিগ টেবিলের সমীকরণ যাই বলুক না কেন, রবিবারের রাতটি সমর্থকেরা মনে রাখবেন শুধুই এক মহাতারকার সেই কালজয়ী ফ্রিকিকের জন্য।