Malda BJP Municipality Win: একের পর এক চমক! রিসর্ট রাজনীতির পর এবার তৃণমূলের সমর্থনে পুরবোর্ডও বিজেপির
মালদহ: জেলা পরিষদ দখলের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উত্তরবঙ্গের মালদহে আরও এক বিরাট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন! তৃণমূলকে চমকে দিয়ে এবার ইংরেজবাজার পুরসভাও কবজা করল বিজেপি। বুধবার নাটকীয় ভোটাভুটিতে ২৫ আসনের পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বিজেপি প্রার্থী তথা স্থানীয় বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। মাত্র তিন জন কাউন্সিলর নিয়েই বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয় ‘জাদুসংখ্যা’ ছুঁয়ে ফেলল গেরুয়া শিবির। তবে এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্যে যে সমীকরণ কাজ করল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। জেলা পরিষদের পর পুরবোর্ডেও ক্ষমতার অলিন্দে আসতে বিজেপিকে বিদ্ধ হতে হল সেই শাসকদলেরই ‘অনুমোদিত’ সমর্থনে!ইংরেজবাজারের রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরেই অচলাবস্থা চলছিল। প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর পদত্যাগের পর থেকেই চলছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। বুধবার বোর্ড গঠনের সভা শুরুর ঠিক আগে শুরু হয় অভূতপূর্ব নাটক। আচমকাই তৃণমূলের ১১ জন কাউন্সিলর জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন, তাঁরা দল না ছাড়লেও এখন থেকে ‘নির্দল’ হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন! তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ শুভময় বসু ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, দলের প্রতীক হাতছাড়া হওয়ায় এবং পুর পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁদের এই পদক্ষেপ। সভা শুরু হলে বিজেপি কাউন্সিলর সুতপা মুখোপাধ্যায় চেয়ারম্যান হিসেবে অম্লানের নাম প্রস্তাব করতেই ওই ১১ জন ‘নির্দল’ তৃণমূল কাউন্সিলর এবং আরও এক নির্দল সদস্য অম্লানকে সমর্থন করেন। ফলে তৃণমূলের উপস্থিত ১৪ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ১৩-০ ভোটে জয় হাসিল করে বিজেপি।অবশ্য তৃণমূল ভাঙিয়ে বোর্ড গড়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি। তাঁর দাবি, ‘‘আমরা কাউকে ভাঙিয়ে আনিনি, পদ খালি ছিল বলে নিয়মমাফিক বোর্ড গঠন হয়েছে। সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।’’ অন্যদিকে, প্রাক্তন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং প্রাক্তন বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষের স্ত্রী গায়ত্রী ঘোষকে একই ফ্রেমে তৃণমূলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে দেখা গেলেও দলের ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কৃষ্ণেন্দুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘নিয়মে যা ছিল, তাই হয়েছে। কে কেন নির্দল হল, তা ওদের নিজস্ব ব্যাপার।’’মঙ্গলবারই রিসর্ট রাজনীতি, অনাস্থা প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ছক ভেস্তে মাত্র চার জন সদস্য নিয়ে মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ দখল করেছিল বিজেপি। আর তার পরের দিনই ইংরেজবাজার পুরসভার এই পতন প্রমাণ করল, উত্তরবঙ্গে শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই একের পর এক গড় দখল করছে পদ্ম শিবির। তবে তৃণমূলেরই ‘নির্দল’ কাঁটায় ভর করে এই নতুন পুরবোর্ড কত দিন স্বস্তিতে চালনা করা সম্ভব হয়, নজর থাকবে সে দিকেই।