Nana Patekar Passes Away: ‘বিরাট আউট হলে আর খেতে ইচ্ছে করত না’! নানার প্রয়াণে শোক সচিন-কোহলির
মুম্বই: শুধু রুপোলি পর্দা বা রণক্ষেত্রেই নয়, প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের অদম্য উপস্থিতি ছড়িয়ে ছিল ক্রীড়াজগতেও। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি তাঁর প্যাশন ও ভালবাসা ছিল সর্বজনবিদিত। বৃহস্পতিবার ভোরে ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেট মহলেও। গোয়ার বাসভবনে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দিয়েও বর্ষীয়ান এই অভিনেতাকে ফেরানো যায়নি। তাঁর বিয়োগে চোখের জল ফেলছেন মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর থেকে শুরু করে আধুনিক ক্রিকেটের মহাতারকা বিরাট কোহলি।নানার প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির প্রতি তাঁর ভালোবাসার একটি পুরনো ভিডিও সাক্ষাৎকার। সেখানে স্পষ্টবক্তা নানাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “বিরাট এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমি ভীষণ ভালবাসি। ও যদি মাঠে তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যায়, তবে আমার আর খাবার খাওয়ার কোনও ইচ্ছেই থাকে না।” কিংবদন্তি অভিনেতার এই সরল ও অকপট অনুরাগের কথা মন ছুঁয়ে গিয়েছিল লাখ লাখ ক্রিকেটপ্রেমীর।প্রিয় অভিনেতার প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় সিনেমার প্রকৃত কিংবদন্তি। তাঁর সৃষ্টি ও অবদান যুগের পর যুগ মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। শান্তিতে থাকুন নানা পাটেকরজি। ওম শান্তি।”একইভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরও। নানার সঙ্গে কাটানো স্মৃতির কথা স্মরণ করে সচিন লিখেছেন, “নানা পাটেকর ছিলেন অত্যন্ত সৎ, স্পষ্টবক্তা ও মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ। তাঁর অভিনয় ও জীবনদর্শনের মধ্যে একই ধরনের সততা ফুটে উঠত। মারাঠি বা হিন্দি যে ভাষার সিনেমাই হোক না কেন, প্রতিটি চরিত্রে তিনি এক অদ্ভুত বাস্তব রূপ নিয়ে আসতেন। তাঁর চলে যাওয়া খুবই বেদনাদায়ক। পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানাই।”পিছিয়ে থাকেননি দেশের অন্যান্য তারকা ক্রিকেটাররাও। ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান নানা পাটেকরকে এক “অনন্য প্রতিভা” হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছেন, “তাঁর কাজ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।” মুম্বইয়ের ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানেও অভিনেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে লেখেন, “তিনি এমন এক অসাধারণ অভিনেতা ছিলেন যিনি বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি মানুষকে আনন্দ ও প্রেরণা দিয়েছেন।”অভিনয় জীবনের সাম্প্রতিক সময়েও ‘হাউসফুল ৫’, ‘ও' রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’-এর মতো প্রজেক্টে কাজ করেছেন নানা। কিন্তু আকস্মিক এই হৃদরোগের আঘাত চিরতরে থামিয়ে দিল তাঁর জীবনযাত্রা। সেলুলয়েডের এই মহা-তারকার প্রয়াণে কেবল সিনেদুনিয়াই অভিভাবকহীন হল না, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রীড়াপ্রেমীরাও হারালেন তাঁদের অন্যতম সেরা এক অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীকে।