Hidden Stories (বাংলা)

Mamata Banerjee: উপনির্বাচনে দিশাহীন মমতাকে এবার খালি হাতে ফেরাল কংগ্রেসও

কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে উপনির্বাচনের ঢাক বাজতেই ফের একবার উল্টো সুর শোনা গেল কালীঘাটের অলিন্দে। চরম রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থা ও দিশাহীনতার মুখে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে কার্যত হাতে-পায়ে ধরে জোটের আর্জি নিয়ে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সেই প্রস্তাব একবাক্যে খারিজ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে ফেরাল কংগ্রেস। আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, এই দুই হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের মুখে তৃণমূল নেত্রীর এমন আকস্মিক 'ডি-ট্যুর' বা বিপরীত মেরুতে হাঁটার চেষ্টা এবং কংগ্রেসের তাতে স্পষ্ট ‘না’ বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিল।রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যায় নাটকীয়ভাবে এআইসিসি-র (AICC) অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে নিজে ফোন করেছিলেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, দুই আসনেই বিজেপি এবং বিরোধীদের রুখতে কংগ্রেসকে সঙ্গে নেওয়া। ফোনের ওপার থেকে মমতা প্রস্তাব দেন, নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। এমনকি তাঁর দলের প্রার্থী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। বিনিময়ে রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস যেন পূর্ণ সমর্থন জানায়। কিন্তু অতীতে মমতার দফায় দফায় বিশ্বাসভঙ্গ, ২০১১-র পর জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া এবং তৃণমূল শাসনকালে রাজ্যজুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর চরম অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই প্রস্তাব নিমেষে নাকচ করেছে কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্ব।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত কড়া সুর চড়িয়ে জানান, “জোট যদি করতে হয়, তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, দুই আসনেই কালীঘাট তৃণমূল আগে কংগ্রেস প্রার্থীদের নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করুক। তা হলেই ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা খোলা যাবে, না হলে নয়।” এতেই স্পষ্ট, মমতার দেওয়া শর্তযুক্ত প্রস্তাবে জল ঢেলে দিয়েছে হাত শিবির। বঙ্গ কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীদের তীব্র ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও আর্জিতেই সাড়া দিতে নারাজ প্রদেশ নেতৃত্ব।এদিকে এই দুই কেন্দ্রেই বিরোধের পারদ আরও তুঙ্গে তুলেছে তৃণমূলের ভিতরের প্রতীকী লড়াই। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূল বনাম ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের লড়াই এখন তুঙ্গে। কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে নামিয়েছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দেকে নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে মমতা শিবির। ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সরাসরি নাম জড়িয়েছিল এই সঞ্চিতার। ফলে একজন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রার্থীকে সামনে রেখে ভোটে জেতা অসম্ভব বুঝেই ব্যাকফুটে চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আত্মরক্ষার তাগিদেই নাকি শেষ মুহূর্তে নন্দীগ্রাম কংগ্রেসকে 'উপহার' দিয়ে রেজিনগর বাঁচানোর কৌশল নেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেস নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় সেই জাঁতাকলে নিজেই আটকে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও বসে নেই। তারা নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে দাঁড় করিয়ে নিজেদের প্রতীকী দাবি জোরালো করেছে। ফলে জোড়া শিবিরের আত্মঘাতী দ্বন্দ্বে দুই আসনেই ব্যাকফুটে কালীঘাট তৃণমূল।কংগ্রেস অবশ্য আগেই দুই আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে প্রচারে নেমে পড়েছে। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান ও রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি দাঁড়িয়েছেন। এদিন রেজিনগরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে পাশে নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মনোনয়ন জমা দেন কাফি। ফলে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার মমতার 'স্বার্থপর মাস্টারস্ট্রোক' পুরোপুরি ব্যর্থ হলো।নন্দীগ্রামে যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপানোর কথা, সেখানে ঘরোয়া কোন্দল, দুর্নীতির ছায়া এবং কংগ্রেসের থেকে প্রত্যাখ্যান, সব মিলিয়ে ভোটের আগেই কার্যত দিশাহীন ও দেউলিয়া দেখাচ্ছে কালীঘাটকে। কংগ্রেস স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল, বারবার ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলার সেই পুরনো মমতার রাজনীতির শিকার তারা আর হতে রাজি নয়।

Mamata Banerjee: উপনির্বাচনে দিশাহীন মমতাকে এবার খালি হাতে ফেরাল কংগ্রেসও