Suvendu Adhikari: ‘ফলতা মডেল’ ধুলিসাৎ! নন্দীগ্রামে নজিরগড়া জয়ের খুশি মুখ্যমন্ত্রী, দুষলেন মমতা-কংগ্রেসকেই
কলকাতা: অতীতের যাবতীয় রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ ও বহুল চর্চিত ‘ফলতা মডেল’-কে এক ঝটকায় খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। নিজের ছেড়ে আসা নন্দীগ্রামের মাটিতে ঘনিষ্ঠ প্রার্থী হাসিরানি রথের হাত ধরে জয়ের রেকর্ড নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে খুশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলে বিরোধী শিবিরের সবকটি প্রতিদ্বন্দ্বীকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন হাসিরানি। জয়ের সেই খুশির আবহেই রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষস্থান থেকে নামা শুভেন্দুর চাঁচাছোলা আক্রমণ আছড়ে পড়ল সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় কংগ্রেসের ওপর।বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই লড়ে বিপুল ব্যবধানে জিতেছিলেন শুভেন্দু। তবে নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম ছাড়ার পর উপনির্বাচনের আগে কম নাটক হয়নি। প্রতীক-যুদ্ধের মাঝে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে সমর্থন জানালে জোটের একটি হালকা হাওয়া তৈরি হয়। এমনকি ভোটের ঠিক আগে গ্রেফতারি পেরিয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়া মিলন প্রধান নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পান। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন আসতেই বিষয়টিকে হাসিতে উড়িয়ে দেন শুভেন্দু। সপাট জবাব, “কংগ্রেস তো একটা মরা দল! রাহুল গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও ওদের কিচ্ছু হবে না। মিলন প্রধান গ্রেফতার হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের বকেয়া ওয়ারেন্টে, আমাদের কোন হাত ছিল না সেখানে। নন্দীগ্রামে তৃণমূলেরই একটা অংশ ভোট দিয়েছে কংগ্রেসে, ব্যস!”নন্দীগ্রামের থেকেও বড় চমক এসেছে প্রায় ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। প্রাক-নির্বাচন জল্পনাকে ধুয়েমুছে দিয়ে সেখানে প্রায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট এখন পদ্মশিবিরের বাক্সে! এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু সরাসরি দায়ী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। “২৭ লক্ষ ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশনে থাকা বা জটিলতা তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া, সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা। ইলেকশন কমিশন বা আমাদের দলের এতে কোনও দায় নেই,”তোপ শুভেন্দুর।সংখ্যালঘু ভোটারদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওদের এতদিন ভয় দেখানো হয়েছিল যে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, ধর্মীয় স্বাধীনতা কাড়া হবে। কিন্তু মানুষ বুঝেছে, সরকারের পাশে থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব। তাই ভীতি কাটিয়ে তাঁরা গণহারে আমাদের ভোট দিয়েছেন।”কথা প্রসঙ্গে রেজিনগরে মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো একজন রেজিস্টার্ড মাতাল! রেজিনগরে গিয়ে একজন মহিলা মন্ত্রীকে নিয়ে উনি যে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করেছেন, দেশের মানুষ তা দেখেছে। সন্ধ্যার পর উনি তো স্থলেই থাকেন না, জলে ভেসে বেড়ান।”সব মিলিয়ে, রেজিনগরে মমতাপন্থীদের এই ভরাডুবি এবং নন্দীগ্রামে পুরোন সমস্ত মার্জিন ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঙ্কার স্পষ্ট করে দিল, রাজ্যের উপনির্বাচনে আপাতত বিরোধীদের সমস্ত জোট-মডেলকেই বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দিয়ে বিজয় নিশান ওড়াচ্ছে বিজেপি।