Hidden Stories (বাংলা)

কী ভাবে দিঘার কাছে পাঁচ ওরাংওটাং? রাতে কালো থার-রহস্যে চাঞ্চল্য, তদন্তে এসটিএফ

ভুবনেশ্বর: ভারতের মাটিতে এরা একেবারেই অচেনা অতিথি। সুদূর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন জঙ্গল যাদের আসল বাসভূমি, সেই অত্যন্ত বিরল ও সংকটাপন্ন প্রজাতির পাঁচটি ওরাংওটাং হঠাৎ করেই উদ্ধার হলো ওড়িশার বালাসোর জেলার একটি জঙ্গল থেকে! কিন্তু কোনও চিড়িয়াখানা বা অভয়ারণ্য নয়, স্রেফ নির্জন জঙ্গল থেকে কী ভাবে জীবন্ত উদ্ধার হলো কোটি কোটি টাকার এই প্রাণীগুলি? কারা এদের পাচার করল? আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের জাল কি তবে পূর্ব ভারতের বুকে এতটাই গভীর? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই প্রকাশ্যে এলো এক রাতের থ্রিলারধর্মী সিসিটিভি ফুটেজ, যা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তোলপাড়।তদন্তকারীদের চোখ এখন আটকে গিয়েছে একটি কালো রঙের মহিন্দ্রা থার (SUV) উপর। মঙ্গলবার সকালে ওরাংওটাংগুলি উদ্ধার হওয়ার ঠিক আগের রাতে বালাসোরের ওই জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সন্দেহজনকভাবে যাতায়াত করতে দেখা যায় গাড়িটিকে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, রাত ঠিক ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ কালো রঙের ওই এসইউভিটি জঙ্গলের দিকে প্রবেশ করে এবং মাত্র ১৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ একই রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে ফিরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে এত নির্জন রাস্তায় ওই থার গাড়ির উপস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। তবে কি রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এই বহুমূল্য প্রাণীদের জঙ্গলে ফেলে রেখে চম্পট দিল পাচারকারীরা? সিসিটিভি ফুটেজটি বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করানো হচ্ছে এবং গাড়িটির নম্বর প্লেট শনাক্ত করার জোর তৎপরতা চলছে।এই আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার কাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই ৪ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচ জোড়া ওরাংওটাংকে তড়িঘড়ি ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত নন্দকানন চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়েছে, যেখানে আপাতত কড়া নিরাপত্তায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাদের।ওড়িশার বনমন্ত্রী গণেশ রাম সিংখুন্টিয়া সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, "বন দপ্তরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা প্রাণীগুলির স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখছেন। প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) স্বয়ং পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজন পড়লে জাতীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও আনা হবে।" মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে এক-একটি ওরাংওটাংয়ের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা! অর্থাৎ পাঁচটি প্রাণীর মোট দাম কোটি টাকারও বেশি।বনমন্ত্রীর অনুমান, আকাশ, জল বা রেলপথ, যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করেই এদের রাজ্যে আনা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা 'ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো' (WCCB)-কে দ্রুত তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন এবং বন্দরগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। কোটি টাকার জলজ্যান্ত এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের শিকড় কোথায়, আর সেই রাতের কালো থার গাড়িটির আসল মালিক কে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মরিয়া তদন্তকারী দল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

কী ভাবে দিঘার কাছে পাঁচ ওরাংওটাং? রাতে কালো থার-রহস্যে চাঞ্চল্য, তদন্তে এসটিএফ