Hidden Stories (বাংলা)

Rahul Gandhi FIR: নিজের নামে মামলার সেঞ্চুরি চান! জ্ঞানেশ ইস্যুতে দমতে নারাজ রাহুল

নয়াদিল্লি: ‘‘আমার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ৪৫টা এফআইআর (FIR) হয়েছে। আমি চাই আমার বিরুদ্ধে ১০০টা এফআইআর হোক! দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে এফআইআর হওয়া মানে আমার বুকে পদক পরা!’’দিল্লির রাজপথে সুর চড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ ও ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ তুলে গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। আর সেই আন্দোলনের তীব্রতা থামাতে যখন মামলা এবং গ্রেফতারির কৌশল নিচ্ছে কেন্দ্র, তখন পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে রাহুলের সাফ বার্তা, মামলা-মকদ্দমা কিংবা আইনি চাপ দিয়ে তাঁকে এক চুলও দমান যাবে না।মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন (EC) অভিমুখে তিন শতাধিক সাংসদকে নিয়ে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হতে হয়েছিল রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধীদের শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু সেই পুলিশি বাধার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের রাজধানীর রাজপথে অবরুদ্ধ প্রতিবাদে নামল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বাম দল-সহ বিরোধী শক্তির সমন্বয়। বুধবার যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাহুলের গলায় ঝরে পড়ল তীব্র ক্ষোভ। সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার আমাদের কাছে কোনও বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন। উনি এবং শাসকদলের নেতৃত্ব মিলে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। এই লোকগুলো দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, এরা দেশদ্রোহী! জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতেই হবে।’’বিরোধীদের মূল ক্ষোভ, কোটি কোটি দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে অন্যায্য ভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই বিষয়ে কথা বলতে লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রায় তিনশত সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আর্জি কানে তোলা হয়নি, উল্টে প্রতিবাদের রাস্তা বন্ধ করতে নামানো হয়েছে পুলিশি শক্তি। বুধবার আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজের ডাকে কাশ্মীরি গেটে দিল্লি সিইও (CEO) অফিসের সামনেও অগণিত কর্মী-সমর্থকদের বিশাল সমাবেশ ঘটে। তার আগে কনট প্লেসের একটি রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিরোধী জোটের সমস্ত সাংসদ ও সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলনের সলতে পাকানোর কাজ সম্পন্ন করেন।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন কেবল আর নির্বাচন কমিশনের দরজায় সীমাবদ্ধ নেই; তা সরাসরি মোদী সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের বিরুদ্ধে সংবিধান অবমাননার বিস্ফোরক অভিযোগ এনে রাহুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকে তিনি দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। শাসকদলের এফআইআর অস্ত্রকে ‘সম্মান পদক’ হিসেবে বুকে জড়িয়ে নিয়ে রাহুল স্পষ্ট করে দিলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিদায় ও ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা না পাওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লির সড়ক থেকে বিরোধীরা পিছু হটবেন না।

Rahul Gandhi FIR: নিজের নামে মামলার সেঞ্চুরি চান! জ্ঞানেশ ইস্যুতে দমতে নারাজ রাহুল