Rahul Gandhi Warning: ‘ঘুমানোর দিন শেষ, রেহাই পাবেন না!’ নির্বাচন কমিশনার ও পুলিশকে এবার চরম হুঁশিয়ারি রাহুলের
নয়াদিল্লি: ভোট চুরি ও এসআইআর (SIR) বিতর্কে এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি বেনজির ও চরম হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এআইসিসি (AICC) সদর দফতরে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তোপ দেগে রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমাদের আন্দোলনের তীব্রতায় জ্ঞানেশ জির রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। উনি ভয়ে ঘুমাতে পারছেন না! তবে আপনাকে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আপনার ছাড় পাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। আপনার সমস্ত দুর্নীতির খতিয়ান আমাদের কাছে আছে, শুধু উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা!” একই সঙ্গে রাজধানী জুড়ে পুলিশি ব্যারিকেড ও দমনপীড়ন নিয়ে দিল্লি পুলিশ এবং মোদী সরকারকেও তোপ দাগেন তিনি।ভোট কারচুপির অভিযোগে দিল্লির রাজপথে ইন্ডি জোটের 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি' ও গণবিক্ষোভ রুখতে প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে রাহুলের প্রশ্ন, “ভারতের রাজধানী শহরকে কেন আজ জেলে পরিণত করা হয়েছে? সাধারণ মানুষকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ট্রেন-বাস থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে!” তবে দিল্লি পুলিশের এই অতিসক্রিয়তাকেই নিজেদের কৌশলগত জয় বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, “আমরা তো এটাই চেয়েছিলাম! হাজার হাজার পুলিশ নামিয়ে আসলে নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে, সরকার কীভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে সরকারেরই বড় ভুল হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এই পুরো চক্রান্তের আসল কারিগর ও ‘হ্যান্ডলার’-এর মুখোশ খুলে যাবে!”দিল্লি পুলিশের ভূমিকাকে তীব্র সমালোচনা করে রাহুল জানান, তিনি যখন জানতে চান কোথায় প্রতিবাদ জানানো যাবে, পুলিশ তাঁকে ঘরে বসে বিক্ষোভ দেখানোর হাস্যকর পরামর্শ দেয়! যন্তর মন্তরে বসার অনুমতি না দিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এমনকি পুলিশি বলপ্রয়োগের উল্লেখ করে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস-এর ক্যাডাররা রাস্তায় নেমে আন্দোলনকারী মহিলাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। যদিও খোদ পুলিশের ৫০ শতাংশ কর্মী গোপনে বিরোধীদের আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জোগাচ্ছেন বলে দাবি করেন কংগ্রেস সাংসদ।গত ১০-১২ বছর ধরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল, তা এখন এক বিশাল গণআন্দোলনের আকার নিয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শ মেনে এদিনই বিরোধী সাংসদদের নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন দাখিল করতে যান রাহুল গান্ধী। আইনি লড়াই ও রাজপথের আন্দোলনের ডাবল অ্যাটাকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও কেন্দ্র সরকারকে কোণঠাসা করাই এখন কংগ্রেস তথা ইন্ডি জোটের মূল স্ট্র্যাটেজি।