১১২ হেল্পলাইন থেকে দুর্গা স্কোয়াড! মহিলা নিরাপত্তায় একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
মহিলা নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে চালু হবে ১১২ জরুরি হেল্পলাইন, যাতে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের রেসপন্স টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। এই পরিষেবা চালুর জন্য প্রতি থানায় একটি করে নির্দিষ্ট পুলিশি গাড়িও রাখা হবে।[TECHTARANGA-POST:10485]বুধবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অভিযোগ পাওয়ার ৬ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সেই সময় গড়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা। নতুন ১১২ হেল্পলাইন চালু হলে সেই সময় অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার। শুধু হেল্পলাইন নয়, প্রতি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক, প্রতি মহকুমায় একটি করে মহিলা থানা এবং মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে 'দুর্গা স্কোয়াড' গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নারী সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ। রাজ্যে আর আরজি কর, কামদুনী বা পার্ক স্ট্রিটের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই বার্তাও দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, "অভয়া আর না। এরকম ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না।"[TECHTARANGA-POST:10471]এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে কোনও নারী নির্যাতনের ঘটনায় যদি কেউ বিচার না পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁরা নারী সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়, আর সদস্য-সচিব প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু গ্রেপ্তারই নয়, অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারী সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত এবং উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তার মতো প্রকল্প চালুর পর এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য।