নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন সংঘাত। খোদ হাইকোর্টের বিচারপতির উপর অনাস্থা প্রকাশ করে তাঁর এজলাস বয়কটের ডাক দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মহাত্মা গান্ধীর ‘সত্যাগ্রহ’ আদর্শ হাতিয়ার করে বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার আদালত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এই বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক।[TECHTARANGA-POST:8385]আবগারি নীতি মামলায় কেজরিওয়ালের খালাস পাওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। সেই মামলাটির শুনানি চলছে বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার এজলাসে। কেজরিওয়ালের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে! এমনকী, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার সঙ্গেও তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক বিদ্যমান। এর জেরে সম্ভাব্য ‘পক্ষপাতিত্বের’ আশঙ্কা থেকেই বিচারপতি শর্মাকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। কিন্তু, আদালত সেই আবেদন ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দিলে শুরু হয় সংঘাত।সোমবার বিচারপতি শর্মাকে একটি কড়া চিঠি লেখেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ওই এজলাসে তিনি সশরীরে বা আইনজীবীর মাধ্যমে আর হাজিরা দেবেন না। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি আমার বিবেকের ডাক শুনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গান্ধীজির সত্যাগ্রহের নীতি অনুসরণ করে এই বিচার প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। কারণ, ন্যায়বিচার কেবল সম্পন্ন হলেই হবে না, তা দৃশ্যমানও হতে হবে।”[TECHTARANGA-POST:8449]কেজরিওয়ালের এই ‘সত্যাগ্রহ’ তাঁকে বড় আইনি বিপাকে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রবীণ আইনজীবী সতীশ তামতার মতে, কোনো মামলায় অভিযুক্ত খালাস পাওয়ার পর আদালতের মুচলেকা অনুযায়ী শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য থাকেন। কেজরিওয়াল যদি স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত থাকেন, তবে আদালত প্রথমে জামিনযোগ্য এবং পরবর্তীতে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানাও জারি করতে পারে। অর্থাৎ, জেদ বজায় রাখতে গিয়ে ফের শ্রীঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে আপ নেতার![TECHTARANGA-POST:8435]অবশ্য নিজের লড়াই জারি রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা রেখেছেন কেজরিওয়াল। এখন দেখার, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘আদালত বয়কট’ দেশের বিচারব্যবস্থায় কোনও নয়া মোড় নিয়ে আসে কিনা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার