কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পাঁচ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—কারা আসছেন বাকি মন্ত্রিসভায়? কার হাতেই বা উঠবে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ব্যাটন? সমস্ত জল্পনা ও জল্পনাকারীদের জল্পনায় ইতি টেনে অবশেষে সোমবার হতে চলেছে রাজ্য মন্ত্রিসভার বহুল প্রতীক্ষিত সম্প্রসারণ। রাজভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এদিন একাধিক নতুন মন্ত্রী শপথ নিতে চলেছেন এবং একই সাথে তাঁদের দপ্তরও বণ্টন করে দেওয়া হবে। তবে সব জল্পনাকে ছাপিয়ে সোমবারের এই মেগা সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ নাম হিসেবে উঠে আসছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন স্পিডস্টার অশোক দিন্দার নাম। ২২ গজের পিচে বল হাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পর এবার তাঁকে দেখা যাবে বাংলার মন্ত্রিত্বের কুর্সিতে।[TECHTARANGA-POST:9639]ক্রিকেট ব্যাট-বল তুলে রাখার পর থেকেই মাঠের বাইরে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলেন অশোক দিন্দা। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ময়না কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তবে প্রথম দফায় তাঁকে বিধানসভার বিরোধী আসনেই বসতে হয়েছিল। চলতি বছরের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনেও ময়না কেন্দ্রের মানুষ তাঁর ওপর ভরসা রেখেছেন এবং বিজেপির টিকিটে পুনরায় বিপুল ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন এই প্রাক্তন পেসার। আর এবার তাঁর সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের পুরস্কার মিলতে চলেছে অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে। [TECHTARANGA-POST:9584]শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও তাঁকে ঠিক কোন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত রাখঢাক বজায় রাখা হয়েছে। একটা সময় রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল যে প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসেবে দিন্দার হাতে ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে ক্রীড়া দপ্তর ইতিমধ্যেই নিশীথ প্রামাণিকের হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে। ফলে দিন্দা কোন নতুন ও চমকপ্রদ দপ্তরের গুরুদায়িত্ব পেয়ে সোমবার চমক দিতে চলেছেন, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।[TECHTARANGA-POST:9626]নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আবহে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদলের আভাস মিলেছে। আগে জোর জল্পনা শোনা গিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে হয়তো সরাসরি দিল্লি থেকে এনে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে নবান্ন ও রাজভবন সূত্রে মেলা সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, রাজ্যের এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুহূর্তে অর্থ দপ্তর অন্য কারও হাতে না ছেড়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হেফাজতেই রাখতে চলেছেন। [TECHTARANGA-POST:9607]অর্থ দপ্তরের পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরও মুখ্যমন্ত্রী নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখবেন বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ঘাড়ে একদিকে যেমন বিপুল ঋণের বোঝা চেপেছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা সঠিক সময়ে গ্রহণ না করার ফলে রাজ্যের রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সবকিছুর জেরে বাংলার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মানদণ্ড যেভাবে নিম্নগামী হয়েছে, তা থেকে রাজ্যকে টেনে তোলাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শুভেন্দু। আর সেই কারণেই অত্যন্ত কৌশলীভাবে অর্থ দপ্তর নিজের হাতে রেখে বাংলার ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বা ব্লু-প্রিন্ট তিনি নিজেই তৈরি করতে চলেছেন। সোমবারের এই মেগা শপথ গ্রহণের পর রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার