নয়াদিল্লি: চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর যখন দিল্লির রাজনীতিতে বিরোধী শিবির নিজেদের জমি শক্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে লাগল এক বিরাট ধাক্কা। সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার দল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অসমের দাপুটে নেত্রী সুস্মিতা দেব। শুধু সাংসদ পদ ত্যাগ করাই নয়, জোড়াফুল শিবিরের সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এই ইস্তফার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। বুধবারই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সুস্মিতার সাক্ষাৎ সেই জল্পনার আগুনে যেন ঘৃতাহুতি দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সুস্মিতার পরবর্তী গন্তব্য এবার গেরুয়া শিবির।[TECHTARANGA-POST:9843]বুধবার আকস্মিকভাবেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করেন সুস্মিতা দেব। তাঁর হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দিয়ে সেটি দ্রুত গ্রহণ করার আর্জি জানান তিনি। গত সপ্তাহ পর্যন্ত দিল্লির উচ্চকক্ষে তৃণমূলের শক্তি ছিল ১৩ জন সাংসদের। কিন্তু পরপর সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের ইস্তফায় সেই সংখ্যাটা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াল ১১-তে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় রাজ্যসভায় যাওয়া সুস্মিতার সাংসদ পদের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। মেয়াদ শেষের চার বছর আগেই তাঁর এই আচমকা দলবদল ও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9842]অসমের প্রখ্যাত রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা একসময় শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষত অসমে তৃণমূলের সংগঠন বিস্তারের গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। ২০২১ সালে মানস ভুঁইয়ার ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রথমবার এবং পরবর্তীতে শান্তনু সেনের মেয়াদ শেষের পর ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু চার বছর বাকি থাকতেই সুস্মিতার এই দলত্যাগ উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূলের বিস্তারের স্বপ্নে বড়সড় জল ঢেলে দিল। এখন দেখার, হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠকের পর কবে অফিশিয়ালি বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন এই নেত্রী।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার