BJP Bengal: বিজেপির প্রতীকে লড়বেন তৃণমূলের অনন্যা-জুঁই? ‘কয়েকজন লবিং করছে!’ বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কুণালের, কী বলছে গেরুয়া শিবির?
কলকাতা: অক্টোবর শেষের মুখেই বাংলায় আবার ঢোল-কাঁসর বেজে উঠেছে পুরভোটের। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসের শেষ লগ্নেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের হাইপ্রোফাইল নির্বাচন। তবে এবারের পুরভোট ঘিরে রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা ও জল্পনাভিত্তিক সমীকরণ। খোদ বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নাকি ঠাঁই পেতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রাক্তন ও বর্তমান কাউন্সিলররা! বিশেষ করে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা জুঁই বিশ্বাসের মতো চেনা নামগুলো কি এবার পদ্ম চিহ্নে ভোট লড়বেন? এই প্রশ্নই এখন আলোড়িত করছে কলকাতার রাজনীতিকে।ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি, যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমবার কলকাতা পুরনিগমে যান। সেই সময় তাঁর আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরকে—যাঁদের তালিকায় জুঁই বিশ্বাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ছিলেন দেবাশিস কুমার কিংবা কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী নাম। সূত্রের খবর, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আজই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের নেতৃত্বে মেগা বৈঠকে বসছে বিজেপি নেতৃত্ব। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা সামনে আসতে পারে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পুর প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তৃণমূলের কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মুখিয়ে রয়েছেন এবং বিজেপিও সেই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।[TECHTARANGA-POST:13810]এই রাজনৈতিক ঘোড়া কেনাবেচা ও লবিংয়ের জল্পনাকে একপ্রকার উসকে দিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি খোলামেলা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, "কয়েকজন চেষ্টা চালাচ্ছে বা বিজেপি নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রাখছে, এটা ঠিক।" তবে এর পাশাপাশি তিনি বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, যে সমস্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে এতদিন বিজেপি দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছে, আজ তাদেরকেই দলে টানতে হচ্ছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত যে বিজেপির নিজের কোনো যোগ্য প্রার্থী নেই।যদিও এই জল্পনাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ কথা, বাংলার মানুষ শুধু জামা বা দল পরিবর্তনের জন্য ভোট দেয়নি, তারা আসল ভাবাদর্শগত পরিবর্তনের জন্য তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তৃণমূলের পুরোনো নেতাদের নিয়ে লড়ার কোনো ইচ্ছে দলীয় স্তরে নেই। তবে জল্পনার মেঘ কতটা সত্যি আর কতটা রটনা, তা বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।