পচা মাংসের পর এবার ওষুধে বিষ? সাউথ সিটি থেকে অ্যাক্রোপলিস—পুজোর মুখে খাস কলকাতায় সাঁড়াশি অভিযান!
কলকাতা: দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র ৩৮ দিন। তার আগেই উৎসবের মরশুমে শহরের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য আঁটসাঁট করতে সর্বশক্তি নিয়ে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন। পচা খাবার ও খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে শহরজুড়ে একের পর এক রেস্তোরাঁর ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার পর, এবার প্রশাসনের আতশকাচের তলায় বড়বাজারের পাইকারি ওষুধের বাজার এবং শহরের তাবড় অভিজাত শপিং মলগুলি। বুধবার সকাল থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে শুরু হয়েছে এই নজিরবিহীন অভিযান।সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন নামিদামি রেস্তোরাঁ ও হোটেলে খাদ্য দফতরের অভিযানে মেলে ফ্রিজে মজুত বাসি পচা মাংস, মিষ্টিতে বিষাক্ত কৃত্রিম রং এবং পনিরে জড়িয়ে থাকা চুল। মারাত্মক এই গাফিলতির জেরে ইতিমধ্য়েই কলকাতার অন্তত ৪০টি রেস্তোরাঁ ও দোকানের লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার বড়বাজারের ওষুধের দোকানে ঝটিকা হানা দেন আধিকারিকরা। সস্তায় ওষুধ কেনার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে জাল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা প্রতিটি ওষুধের ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।খাবার ও ওষুধের পাশাপাশি শহরের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাতেও নেমেছে পুলিশ ও দমকলের বিশেষ দল। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল নবান্ন। সেই সূত্র ধরেই শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিলের পর এবার নিশানায় শপিং মলগুলি। বুধবার সকাল থেকে সাউথ সিটি, পার্ক স্ট্রিটের পতাকা হাউস, অ্যাক্রোপলিস-সহ কলকাতার মোট ২৯টি নামী মলে চলছে দমকল ও পুলিশের যৌথ ফায়ার সেফটি অডিট। পুজোর ভিড়ে কোনও অঘটন ঘটলে জরুরি নির্গমন পথ সচল রয়েছে কি না, আপৎকালীন সিঁড়ি ব্যবহারের উপযুক্ত কি না এবং মলগুলির ফুড কোর্ট ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিসুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখছেন আধিকারিকরা।[TECHTARANGA-POST:12460]হিডেন স্টোরিজ নিউজ