পাটনা: বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অধ্যায়ের যবনিকা পতন হতে চলেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, সোমবারই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন নীতীশ কুমার। সূত্রের খবর, বিধান পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পরই তিনি রাজভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। বিহারের ইতিহাসে ১০ দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া নীতীশের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।[TECHTARANGA-POST:7681]চলতি মাসের শুরুতেই, ৯ মার্চ রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নীতীশ কুমার। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে বিধানসভার সদস্য এবং সংসদের সদস্য থাকতে পারেন না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই তাঁকে বিধান পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। আর বিধান পরিষদের সদস্যপদ ছাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদও ত্যাগ করতে হবে।নীতীশের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, দলের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও নীতীশ কুমার নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তবে বিরোধীরা এই ঘটনায় বিজেপির হাত দেখছেন।আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেছেন, "নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না। বিজেপি জোর করে তাঁকে মনোনয়ন দিতে বাধ্য করেছে। এটা আসলে জেডিইউ-কে শেষ করে দেওয়ার একটা নীল নকশা। এবার দল চলবে বিজেপির ইশারায়।"[TECHTARANGA-POST:7678]রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিহারের একচ্ছত্র অধিপতি থেকে দিল্লির রাজ্যসভায় যাওয়া নীতীশের জন্য এক প্রকার 'পদস্থলন'। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে যে প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল, সাংসদ হিসেবে তা থাকবে না। যদিও গত ৫ মার্চ মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নীতীশ কুমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে জানিয়েছিলেন যে, তিনি দুই কক্ষেরই সদস্য থাকতে আগ্রহী ছিলেন।এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— নীতীশ কুমারের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে কে বসবেন? বিহারের শাসনভার কার হাতে তুলে দেবেন তিনি? বিজেপির কোনো হেভিওয়েট নেতা না কি জেডিইউ-র বিশ্বস্ত কেউ— এই নিয়ে পাটনা থেকে দিল্লি পর্যন্ত জল্পনা তুঙ্গে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার