কলকাতা: রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হওয়া বহুচর্চিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনার আবহে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল পরিষদীয় রাজনীতি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানের প্রভাবশালী বাম শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’কে (JUTA) নিশানা করে প্রকাশ্যেই চরম কড়া হুঁশিয়ারি দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বাম মনোভাবাপন্ন শিক্ষাবিদ ও ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে চাঁচাছোলা ভাষায় তুলোধোনা করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি আর একচুলও বরদাস্ত করা হবে না। জুটার সদস্যদের পূর্বতন রাজনৈতিক কার্যকলাপের যাবতীয় খতিয়ান সরকারের নখদর্পণে রয়েছে জানিয়ে তিনি চরম কটাক্ষ ছুড়ে দেন, যাদের এত অগাধ জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক মাপের বুদ্ধি, তাদের এবার রাজ্যের দূরবর্তী, পিছিয়ে পড়া ও দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সেই কেন্দ্রগুলিও সবল হতে পারে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের খাঁড়া নেমে আসতেই বিরোধী ও একাংশের শিক্ষক মহলে তীব্র ‘চিড়বিড়ানি’ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।যাদবপুর ক্যাম্পাসের চেনা রাজনৈতিক পরিবেশ, দেওয়াল লিখন এবং স্লোগান প্রসঙ্গে সুর সপ্তমে চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণতান্ত্রিক মিছিল করার অধিকার সকলের থাকলেও ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষাণজি’ বা কোনো দেশবিরোধী স্লোগান তোলা কিংবা ‘লাল সেলাম’ জানানো কিছুতেই সহ্য করা হবে না। যারা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ জাতীয় বিতর্কিত দাবি তোলে কিংবা সনাতন ধর্মকে হেয় করে, তাদের বিরুদ্ধে আর অহিংস নরম মনোভাব নয়, বরং নেতাজির কঠোর ভাষায় উপযুক্ত প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিধায়কদের রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই, পুলিশকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরাসরি কঠোর পদক্ষেপের জন্য। একই সঙ্গে বদলি আইন বা প্রশাসনিক কড়াকড়িতে ক্ষুব্ধ অধ্যাপকদের উদ্দেশে তীব্র তাচ্ছিল্য ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন, যাদের এই সরকারি চাকরিতে এতই অস্বস্তি, তারা যেন অবিলম্বে চাকরি ছেড়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে পাকাপাকি রাজনৈতিক ‘হোলটাইমার’ হয়ে যান এবং নিউ মার্কেটের মোড়ে কৌটো হাতে চাঁদা সংগ্রহে নামেন।উচ্চশিক্ষায় আমূল রদবদল আনতে পেশ করা ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০১৭ সালের আইনে নয়া ১৪এ ধারা যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের সুপারিশ ও পরামর্শে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এক ক্যাম্পাস থেকে অন্য ক্যাম্পাসে সরাসরি বদলি করার পূর্ণ ক্ষমতা পেতে চলেছেন চ্যান্সেলর বা আচার্য। ইতিপূর্বে কলেজস্তরে এমন বদলির সংস্থান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আইনি শূন্যতা ছিল, যা এই নতুন বিলের হাত ধরে মুছে ফেলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আগ্রাসী আক্রমণ ও নয়া আইনের যৌথ আবহে গোটা রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক পরিসরে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।[TECHTARANGA-POST:12496]হিডেন স্টোরিজ নিউজ