কলকাতা: দুর্গাপুজোর একদম শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে বাংলা। বাজারে বাজারে কেনাকাটার ঢল থেকে শুরু করে মণ্ডপে প্যান্ডেল তৈরি ও আলোর কাজ—উৎসবের মরশুমে চতুর্দিকে এখন তুঙ্গে উন্মাদনা। ঠিক এই আবহেই পুজোপ্রেমীদের জন্য রাজ্যজুড়ে আবহাওয়া নিয়ে চলে এলো এক বড় স্বস্তির খবর। হাওয়া অফিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত বাংলায় ভারী বা টানা বৃষ্টির কোনো বড়সড় সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর মুখে মণ্ডপসজ্জা কিংবা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বৃষ্টির কারণে কোনো বড় বিঘ্ন ঘটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই আনন্দের স্বস্তির সাথেই পিছু ছাড়ছে না একটা নতুন অস্বস্তি। দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত পরিষ্কার ও রোদে ঝলমলে থাকলেও বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকার কারণে দিনভর ঘাম আর চটচটে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হবে।মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ ছিল মেঘমুক্ত ও রোদঝলমলে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্থানীয়ভাবে মেঘ জমে কোথাও কোথাও সাময়িক বা বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তবে সেই বৃষ্টি হবে অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, যার ফলে সাধারণ জনজীবন বা পুজোর বাজারে বিশেষ কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। আগামী ৫ থেকে ৬ দিন তিলোত্তমা কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারী বর্ষণের কোনো পূর্বাভাস নেই এবং আলাদা করে কোনো সতর্কবার্তাও জারি করা হয়নি। একইভাবে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় আগামী অন্তত সাত দিন ভারী বৃষ্টির দুর্যোগ থেকে রেহাই মিলবে। মণ্ডপ নির্মাণ, আলো লাগানো ও প্রতিমা সাজানোর কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন পুজো উদ্যোক্তারা।অন্যদিকের ছবিটা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রবণতা সামান্য বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাশাপাশি কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে মঙ্গলবার হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটতে পারে। তবে পাহাড় হোক বা সমতল—উত্তরবঙ্গের কোথাও এই মুহূর্তে অতিভারী বা একটানা দুর্যোগপূর্ণ বৃষ্টির পূর্বাভাস মেলেনি। সব মিলিয়ে পুজোর ঠিক আগের এই দিনগুলিতে বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছায়া থাকছে না। দক্ষিণবঙ্গে মিষ্টি রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি এবং উত্তরবঙ্গে হালকা বৃষ্টির আমেজ—আপাতত এই আবহাওয়া নিয়েই মাততে হবে বাঙালির মহোৎসবে।[TECHTARANGA-POST:13126]