Hidden Stories (বাংলা)

"আমি তো সই করিনি, তবে কি ভূতে করল?" বিধায়কদের জাল সই নিয়ে বেনজির কেলেঙ্কারি তৃণমূলে!

কলকাতা: "আমি তো সই করিনি, তাহলে সইটা কে করল! ভূত করল?"— দলীয় বিধায়কের এই একটি বিস্ফোরক মন্তব্যেই ওলটপালট হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেজোলিউশনে খোদ তৃণমূল বিধায়কদের 'ফেক' বা জাল স্বাক্ষর জমা দেওয়ার এক চরম নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি এবার সামনে এল। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বিধায়কদের সই আসল নাকি নকল, তা হাতেনাতে ধরতে এবার 'হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট' বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ সঙ্গে নিয়ে সরাসরি তাঁদের ড্রয়িংরুমে হানা দিচ্ছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ক্যানিং পূর্বের বাহরুল ইসলাম এবং বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহার মতো হেভিওয়েটদের বাড়িতে সিআইডি-র এই ম্যারাথন হানা ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করাকে কেন্দ্র করে। এই পদের সপক্ষে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত একটি রেজোলিউশন পেপার জমা দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেই তালিকায় থাকা সইগুলো নিয়েই এখন উঠেছে মারাত্মক সব প্রশ্ন। খোদ দলেরই একাধিক বিধায়ক এখন ক্যামেরার সামনে ক্যামেরার সামনে দাবি করছেন যে, ওই কাগজে তাঁরা আদেও কোনও স্বাক্ষরই করেননি! জাল সইয়ের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রথমে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হয়। কলকাতা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করলেও, হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের নিখুঁত প্যানেল থাকায় পরবর্তীতে এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি-র হাতে। এরপরই কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন গোয়েন্দারা। ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি থেকে শুরু করে বোলপুরের চন্দ্রনাথ সিনহা— সবার বাড়িতেই একে একে পৌঁছে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।এই তদন্তের মুখে পড়ে একেক জন বিধায়ক এখন একেক রকম বিস্ফোরক দাবি করছেন। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ কাটায় সিআইডি টিম, যেখানে পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়। তদন্তের পর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটা বিধানসভার কোনও কাগজ নয়, এটা আমাদের দলীয় কাগজ ছিল। আমরা দলের তরফে একসঙ্গে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু কাগজে জায়গা ছিল না বলে আমি সই করিনি। বুঝতে পারিনি সই না করলে বাড়িতে সিআইডি চলে আসবে! পরের বার থেকে সতর্ক থাকব।" তবে সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহরুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেদিন এই সই প্রক্রিয়া চলেছিল, সেদিন এলাকায় গণ্ডগোলের কারণে তিনি বাড়ি থেকেই বেরোননি। দলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাহরুল বলেন, "আমি তো সই করিনি। দল অন্তত একবার আমাকে জানাতে পারত। আমি সই করতে চাই কি না, সেটাও জানতে চাওয়া হয়নি।" অন্যদিকে, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে সিআইডি গেলেও তিনি এখনও এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। খোদ শাসকদলের নথিতে বিধায়কদের সই ‘জালিয়াতি’র এই ঘটনা যে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সততাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:9579]হিডেন স্টোরিজ নিউজ

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার