পাণ্ডবেশ্বর ও কলকাতা: ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের আন্তঃরাজ্য কয়লা পাচার মামলার শিকড় খুঁজতে এবার পাণ্ডবেশ্বরে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকালে পাণ্ডবেশ্বরের প্রভাবশালী কয়লা ব্যবসায়ী ও মাফিয়া হিসেবে পরিচিত মাইজুলের বাড়ির সামনে হাজির হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। ঝাড়খণ্ড ও কলকাতার যৌথ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্তকারী সূত্রে খবর, এই অভিযানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে। কয়লা পাচার মামলায় সম্প্রতি আট জন বড় মাপের ব্যবসায়ী ও মাফিয়াকে তলব করেছিল ইডি। এই তালিকায় ছিলেন কৃষ্ণ মুরারি কয়ল এবং নরেন্দ্র খরকার মতো প্রভাবশালী নাম। সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জেরায় এই ধৃত ও অভিযুক্তদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাণ্ডবেশ্বরে মাইজুলের ডেরায় পৌঁছান আধিকারিকরা।ঝাড়খণ্ড এবং কলকাতার যৌথ কয়লা পাচার চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি। পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় কয়লা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও তা ভিন রাজ্যে পাচারে মাইজুলের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তল্লাশিতে প্রচুর সন্দেহজনক আর্থিক নথি এবং ডিজিটাল এভিডেন্স উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যা পাচারের টাকার গন্তব্য নির্ধারণে সাহায্য করবে।ইডি আধিকারিকদের মতে, কৃষ্ণ মুরারি কয়ল এবং নরেন্দ্র খরকারকে জেরা করে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম উঠে এসেছে। মাইজুলের বাড়ি থেকে পাওয়া তথ্য সেই বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আরও বেশ কিছু জায়গায় তল্লাশি এবং ধরপাকড় চলতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।একদিকে বুদবুদ থানার হবু ওসির বাড়িতে তল্লাশি, আর অন্যদিকে পাণ্ডবেশ্বরে কয়লা মাফিয়ার বাড়িতে ইডি হানা—এই জোড়া ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, পুলিশ এবং কয়লা মাফিয়াদের এই ‘অশুভ আঁতাত’ অনেকদিন ধরেই চলছিল। প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া এই বিশাল কারবার সম্ভব নয়। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, নির্বাচনের আগে বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করতে বেছে বেছে কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার