নন্দীগ্রাম: অন্তর্বর্তী জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে আসতেই হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে রাজনৈতিক বোমাবাজি শুরু করলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে জামিন পাওয়ার পর বুধবার জেলমুক্ত হতেই পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং জোরপূর্বক প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের চাপের নজিরবিহীন অভিযোগ তুললেন তিনি। সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে লোভনীয় টোপ দিয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই কংগ্রেস নেতা। যা ঘিরে ভোটপ্রচারের মাঝেই মেদিনীপুরের রাজনীতির পারদ চড়চড় করে চড়তে শুরু করেছে।মিলন প্রধানের দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুরে প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎই সাদা পোশাকের পুলিশ এসে তাঁকে বলপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। গাড়িতে তাঁর চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। অন্ধকারের মধ্যেই অনুমান করে তিনি বোঝেন, তাঁকে মন্দারমণির এক বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে লিফটে করে এক রহস্যময় ঘরে ঢোকানোর পর খোলা হয় চোখের বাঁধন। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘরে উপস্থিত আইপিএস ও ডিএসপি পদমর্যাদার পুলিশকর্তারা তাঁকে সরাসরি অফার দেন— প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করলেই কালকের মধ্যে চাহিদামতো যাবতীয় পদ ও অর্থ মিলবে। তবে তিনি নীতি ও আদর্শের খাতিরে সেই বিরাট প্রলোভন ফিরিয়ে দেন।পরবর্তীতে সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০০৭ সালের পুরনো একটি খুনের মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ মিলনের। যদিও এই ভয়ঙ্কর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা ও স্থানীয় আইসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। একই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথকে 'বহিরাগত' আখ্যা দিয়ে নন্দীগ্রামের বর্তমান উন্নয়ন ও উপনির্বাচন নিয়েও একাধিক ঝাঁঝালো মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন এই কংগ্রেস প্রার্থী।প্রসঙ্গত, আদালত মিলনকে আপাতত তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। নির্বাচন মেটার পর তাঁকে হলদিয়া আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও দমবার পাত্র নন মিলন। এই ঘটনাকে সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করেছে হাত শিবির। এখন নির্বাচনী মরসুমে কংগ্রেস প্রার্থীর এই বোমা নন্দীগ্রামের ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।[TECHTARANGA-POST:13193]