Gopalnagar Case: লেডি কনস্টেবল বান্ধবীর সঙ্গে ব্যাংক ম্যানেজার স্বামীর গোপন প্রেম! জানতে পেরেই মর্মান্তিক পরিণতি, ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
গোপালনগর: পরকীয়ার বিষে বিষাক্ত হয়ে উঠলো এক সাজানো সংসার। ব্যাংক ম্যানেজার স্বামীর সঙ্গে এক মহিলা পুলিশকর্মীর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়াই কি কাল হলো স্ত্রীর? প্রতিবাদ করায় জুটতো অত্যাচার, আর শেষমেশ শ্বশুরবাড়ি থেকেই উদ্ধার হলো গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর এলাকায়। মৃতার বাপের বাড়ির পরিবারের সরাসরি অভিযোগ— এটি আত্মহত্যা নয়, বরং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে খুন করেছে তাঁদের মেয়েকে। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা যুবতীর নাম পূর্ণিমা মণ্ডল বৈদ্য (৩৫)। তাঁর বাপের বাড়ি নদিয়ার চাকদহে। প্রায় ১৪ বছর আগে গোপালনগরের বাসিন্দা সন্দীপ বৈদ্যের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা সন্দীপ চাকদহের একটি স্বনামধন্য ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত। পরিবারের দাবি, কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই পূর্ণিমার ওপর অত্যাচার শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্যও প্রতিনিয়ত চলতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।এরই মধ্যে পূর্ণিমার সামনে আসে স্বামী সন্দীপের চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ব্যাংকের কাজের সুবাদে গোপালনগর থানার এক মহিলা পুলিশকর্মীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সন্দীপের। এমনকি ওই মহিলা পুলিশকর্মীকে গোপালনগরের বাড়িতেও নিয়ে আসা হতো বলে অভিযোগ। স্বামী ও ওই মহিলা কনস্টেবলের পরকীয়া সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন পূর্ণিমা। আর তাতেই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। মৃতার দিদি সীমা মণ্ডল জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের দিন রাত দুটো নাগাদ পূর্ণিমা ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁকে প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে বলেও ভয়ে ভয়ে জানিয়েছিলেন তিনি।পরের দিন সকালে বাপের বাড়িতে ফোন করে বলা হয় পূর্ণিমা অসুস্থ। স্বজনেরা ছুটে এসে গোপালনগরের বাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হতে দেখেন। মৃতার মা ঝর্ণা মণ্ডলের স্পষ্ট দাবি, জামাই ও তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা মিলে মেয়েকে শেষ করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই গোপালনগর থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:13174]