Election Commission: পদ খোয়ালেন বিতর্কিত সঞ্জয়! নির্বাচন কমিশনের অন্দরে রদবদল, মসনদে কোন নতুন মুখ?
কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বহু দিন ধরেই চলছিল টানটান নাটকীয়তা, আর তার মাঝেই এল এক বিরাট চমক। কমিশনের প্রশাসনিক বিন্যাসে আমূল বদল এনে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে বসানো হলো ২০১০ সালের রাজস্থান ক্যাডারের চটপটে আইএএস অফিসার প্রকাশ রাজপুরোহিতকে। বহু বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত বিদায়ী ডেপুটি কমিশনার সঞ্জয় কুমারের স্থলাভিষিক্ত করা হলো তাঁকে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া শুরু করার নথিতে স্বাক্ষর করে সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন এই সঞ্জয় কুমার। তবে নিজের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার বহু আগেই গত বছরের অগস্টে অত্যন্ত রহস্যজনক ভাবে কমিশনের সমস্ত কাজের দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয় তাঁকে। সেই শূন্য আসনেই এ বার বসানো হচ্ছে অভিজ্ঞ আইএএস প্রকাশকে।সম্প্রতি কমিশনের ভেতরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ডিজিটাল পরিকাঠামো পরিচালনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে থাকা সঞ্জয় কুমার এবং একই বিভাগে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে প্রেষণে আসা সীমা খন্নার কাজের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। সূত্রের খবর, কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় ডিজিটাল কাজকর্মে সীমার একচ্ছত্র আধিপত্য এবং প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। এমনকি, সঞ্জয়কে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেও তীব্র আপত্তি জানান তাঁরা।কমিশনের নথি চালাচালি এবং ফাইল পাশ করানো নিয়েও অভ্যন্তরীণ সমীকরণে তৈরি হয় তীব্র জটিলতা। নিয়ম অনুযায়ী সীমার ফাইলগুলি আগে সঞ্জয়ের মাধ্যমেই উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে যেত। কিন্তু সীমা পদোন্নতি পাওয়ার পর মণীশ গর্গ এক নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানান, এখন থেকে ফাইল সরাসরি যাবে নির্বাচন কমিশনারদের টেবিলে। যদিও সেই পরিবর্তন পুরোপুরি রূপায়ণ করা সম্ভব হয়নি। সঞ্জয়ের আচমকা বিদায়ের পর থেকে 'লিঙ্ক অফিসার' হিসেবে মণীশের ওপরই সমস্ত বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়েছিল।ঠিক এমন এক উত্তপ্ত ও বিতর্কিত আবহে শনিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতর থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিও প্রকাশ রাজপুরোহিতের নাম মঞ্জুর করে দিয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন পদে প্রকাশের কর্মকালের মেয়াদ থাকবে ২০৩০ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বিতর্ক সামাল দিতে প্রকাশের এই অন্তর্ভুক্তি কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।