যুদ্ধের জের: রফতানি বন্ধ হতেই ভারতে হু হু করে কমছে ডিমের দাম!
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের বাজারে ডিমের দামে বড়সড় ধস নামল। যেখানে যুদ্ধের জেরে গ্যাস বা জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, সেখানে ঠিক উল্টো ছবি ডিমের বাজারে। দেশের একাধিক রাজ্যে ডিমের দাম কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেলেও, মাথায় হাত পড়েছে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ও বড় উৎপাদকদের।[TECHTARANGA-POST:7240]ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটি (NECC)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতের ডিম রপ্তানি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ। তামিলনাড়ুর নামাক্কল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি ডিম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। কিন্তু, যুদ্ধের কারণে ডিমবোঝাই কন্টেনারগুলি মাঝপথ থেকে ফিরে আসছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিমের জোগান অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে।তথ্য বলছে, কর্ণাটকে গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম প্রতি পিসে ৭.০৬ টাকা থেকে কমে ৪.৬০ টাকায় নেমেছে! হসপেট ও মহীশূরের মতো উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কার্যত ডিমের পাহাড় জমে গিয়েছে! তেলেঙ্গানায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। যে ডিম দু'মাস আগে ৮ টাকা প্রতি পিস হিসাবে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তার বাজার দর ৩.৫০ টাকা থেকে ৩.৮০ টাকা। উৎপাদকদের দাবি, প্রতি ডিমে তাঁদের প্রায় ১.৫০ টাকা করে লোকসান হচ্ছে।বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলায় ডিমের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও কিছুটা কম। একদিকে উচ্চ উৎপাদন এবং অন্যদিকে রপ্তানি বন্ধ - এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ ভারতের পোল্ট্রি শিল্প। উপায় না দেখে অনেক উৎপাদক ডিম হিমঘরে মজুত করছেন। যেখানে সর্বোচ্চ তিনমাস পর্যন্ত তা রাখা সম্ভব। তবে, এই অনিশ্চয়তা কতদিন চলবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর। যুদ্ধ না থামলে ডিমের বাজারে এই লোকসান আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।