Hidden Stories (বাংলা)

পুর-দুর্নীতিতে অর্জুনের ৭ দিনের ডেডলাইন! এফআইআর না হলে আধিকারিকদেরই জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি

বারাকপুর: পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত— দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগে সোমবার একযোগে একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে হানা দিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। একই দিনে গারুলিয়া পুরসভা এবং মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ঝটিকা সফর সেরে দুর্নীতিবাজদের সরাসরি জেল খাটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, দুর্নীতিতে যারা যুক্ত, তাদের রেয়াত করা হবে না। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে এফআইআর দায়ের করতে হবে, অন্যথায় নিষ্ক্রিয়তার দায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হবে। বিধায়কের এই চরম ডেডলাইনে এখন জোর কম্পন বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক মহলে।[TECHTARANGA-POST:9257]বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই গারুলিয়া পুরসভা কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার পুরসভার চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ অফিসার (ইও), ফিনান্স অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন অর্জুন সিং। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই পুরসভায় প্রায় ১০০ জন এমন রয়েছেন যারা কোনো কাজ না করেই মাসের পর মাস সরকারি বেতন পকেটে পুরছেন। এমনকি একাধিক কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্যরাও কাজ না করে টাকা তুলছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:9234]অর্জুনের স্পষ্ট কথা, কাজ না করে যারা টাকা নিয়েছেন, তাদের সেই অর্থ রাজকোষে ফেরত দিতেই হবে। এখানেই শেষ নয়, পুরসভার আর্থিক লেনদেন ও কর ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের নামে নাগরিকদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, অথচ এই খরচ মূল ট্যাক্সের মধ্যেই ধরা থাকে। পাশাপাশি একাংশের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে সরাসরি কাটমানি ও ঠিকাদারি রাজ চালানোর অভিযোগ তুলে বলেন, কোথাও কাউন্সিলর নিজে ঠিকাদার, আবার কোথাও তাঁর স্ত্রী বা ছেলে ব্যাকডোর দিয়ে কাজ পাচ্ছেন— এই সমস্ত বেনিয়ম ও লিকেজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।গারুলিয়ার পর মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পরিদর্শনে গিয়েও একইরকম আগ্রাসী মেজাজে ধরা দেন অর্জুন সিং। সেখানে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, হাই ড্রেনের মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং খাল বুজিয়ে সম্পূর্ণ জলনিকাশি ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9214]এর ফলে মোহনপুর ও বারাকপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং জল নামার স্বাভাবিক পথ কার্যত রুদ্ধ। এমনকি মোহনপুর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বেআইনি উপায়ে ওবিসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ভুয়ো পরিচয়ে পদ দখলের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান অর্জুন। দলমত নির্বিশেষে কড়া বার্তা দিয়ে এই হেভিওয়েট নেতা স্পষ্ট করে দেন, যারা চুরি করেছে তাদের জেলে ঢোকাতেই হবে, এমনকি তাঁর নিজের দলের কেউ চুরি করলেও তিনি বরদাস্ত করবেন না। বারাকপুর ও উত্তর বারাকপুর পুর এলাকাতেও পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ এবং জঞ্জাল সমস্যা রুখতে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্জুন সিং।

পুর-দুর্নীতিতে অর্জুনের ৭ দিনের ডেডলাইন! এফআইআর না হলে আধিকারিকদেরই জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার