কাজুবরফির রুপোলি আস্তরণই কি বিপদ ডেকে আনছে? খাওয়ার আগে সাবধান!
কাজুবরফি পছন্দ করেন না এমন মিষ্টিপ্রেমী মানুষ খুব কমই আছেন। তার উপর মিষ্টির গায়ে পাতলা রুপোলি আস্তরণ আরও আকর্ষণীয় করে তোলে এই মিষ্টিকে। উৎসব হোক বা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান, চকচকে এই সাজ মিষ্টির আকর্ষণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই রাংতা সত্যিই খাঁটি রুপোর কি না, তা কি সবসময় বোঝা যায়? আর খাবারের জন্য এইসব ধাতু ব্যবহার করা হলে তার কী প্রভাব পড়তে পারে শরীরে?চিকিৎসকদের মতে, মূল সমস্যা মিষ্টি নয়, বরং খাবারের সঙ্গে নিয়মিত শরীরে ঢুকে পড়া কোনও অনুপযুক্ত ধাতু। দীর্ঘদিন ধরে দূষিত ধাতুর সংস্পর্শে এলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে লিভার, কিডনি বা স্নায়ুতন্ত্রের উপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়। তবে একবার বা দু’বার এমন রাংতা লাগানো মিষ্টি খেয়ে ফেললেই যে সঙ্গে সঙ্গে বিষক্রিয়া হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বারবার এমন খাবার খাওয়া হলে তা চিন্তা বাড়ায়। অর্থাৎ উৎসবের দিনে এক টুকরো কাজুবরফি খাওয়া আর নিয়মিত অনিরাপদ রাংতা-যুক্ত মিষ্টি খাওয়া দুটি ভিন্ন জিনিস। [TECHTARANGA-POST:12299]চোখে দেখে বোঝা যায়?এখানেই বড় সমস্যা। সাধারণ ক্রেতার পক্ষে শুধু মিষ্টির উপর থাকা রুপোলি পাত দেখে সেটি খাঁটি রুপোর কি না, নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব। রুপোর পাত সাধারণত খুব পাতলা, হালকা এবং চকচকে হয়। কিন্তু শুধু রং, উজ্জ্বলতা বা চেহারা দেখে তার ধাতব উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই রাংতা একটু কালচে, অস্বাভাবিক বা মোটা মনে হলেই সেটিকে নকল বলে ধরে নেওয়ারও সুযোগ নেই। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরীক্ষা।মিষ্টিতে যে রুপোলি পাত ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খাবারের উপযোগী এবং নিরাপদ কি না, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার। পাশাপাশি খাদ্যসুরক্ষা সংস্থাগুলিরও নিয়মিত নজরদারি জরুরি। মিষ্টি খাওয়াকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। সচেতন হওয়াটাই আসল। কারণ চকচকে রাংতা চোখে যতই সুন্দর দেখতে লাগুক, খাবারের ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।