জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গের গর্ব, প্রবীণ সারিন্দাশিল্পী পদ্মশ্রী মঙ্গলাকান্ত রায়ের চিকিৎসায় দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন আর এক পদ্মশ্রী করিমুল হক। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা সত্ত্বেও ঘর ছেড়ে হাসপাতালে যেতে নারাজ ছিলেন শতায়ু ছুঁইছুঁই শিল্পী। কিন্তু ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ করিমুল হকের জেদ আর ভালোবাসার কাছে হার মানলেন তিনি। সোমবার সকালে ময়নাগুড়ির ধওলাগুড়ি গ্রামের বাড়ি থেকে মঙ্গলাকান্ত রায়কে একপ্রকার উদ্ধার করেই জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটিতে ভর্তি করিয়েছেন করিমুল।[TECHTARANGA-POST:8501]গত কয়েক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় শয্যাশায়ী ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়। গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া এবং তীব্র কাশির কারণে তাঁর কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা বারবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। এই খবর কানে পৌঁছতেই সেখানে পৌঁছে যান করিমুল হক। সোমবার সকালে তিনি শিল্পীর বাড়িতে আসেন এবং দীর্ঘক্ষণ একান্তে কথা বলে মঙ্গলাকান্তকে চিকিৎসার জন্য রাজি করান।[TECHTARANGA-POST:8492]জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তির পর শিল্পীর চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিল্পীর ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং শরীর অত্যন্ত দুর্বল। গলার গ্ল্যান্ড ফোলাটি টিবি, লিম্ফোমা নাকি ক্যানসার - তা নিশ্চিত করতে বায়োপসি-সহ একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালের এমএসভিপি কল্যাণ খাঁ জানিয়েছেন, শিল্পীর চিকিৎসায় কোনও খামতি রাখা হবে না।[TECHTARANGA-POST:8489]মঙ্গলাকান্ত রায়ের পরিবারের শোচনীয় আর্থিক অবস্থা দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন করিমুল হক। তিনি সাধারণ মানুষকে শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবারের অভিযোগ ছিল যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় শিল্পীর কোনও খোঁজ নেওয়া হয়নি। তবে, এই খবর জানাজানি হওয়ার পর জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সঞ্জীবকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে শিল্পীর প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা করছে। তবে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও সুর হারাননি শিল্পী। যন্ত্রণার মাঝেই গুনগুন করে গেয়ে উঠছেন সারিন্দার সুর!
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার