SIR জট কাটাতে জোকায় প্রস্তুত ট্রাইব্যুনাল: বিচারপতিদের পরিদর্শন, ৯১ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে তৎপরতা
নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তা কাটাতে এবার তৎপর হল বিচারবিভাগীয় স্তর। দক্ষিণ শহরতলীর জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশেই ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ প্রতিষ্ঠানে বসতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল। সূত্রের খবর, ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে। তার আগে আজ ট্রাইব্যুনাল সেন্টারটি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন বিচারপতিরা।[TECHTARANGA-POST:7948]পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আবেদনগুলি গুরুত্ব সহকারে পুনর্বিবেচনা করবে এই ট্রাইব্যুনাল। তবে বড় প্রশ্ন এটাই— ট্রাইব্যুনাল যদি কারও নাম বৈধ বলে ঘোষণা করে, তবে কি তাঁরা এই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন? এই আইনি জট এখন রাজ্যের রাজনীতিতে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।[TECHTARANGA-POST:7945]বিষয়টি ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালতের দরজায় পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাধিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সোমবারই স্পষ্ট হবে যে, জোকায় তৈরি এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা ২০২৬-এর নির্বাচনে বুথমুখী হতে পারবেন কি না।[TECHTARANGA-POST:7939]নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় রাজ্যে ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষেরও বেশি। কিন্তু ধাপে ধাপে সংশোধনের পর প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে। বিশেষ করে ২৭ লক্ষেরও বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ায় বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। জোকায় বিচারপতিদের সেন্টার পরিদর্শনের পর এখন সকলের নজর সোমবারের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে। ৯১ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কি ফিরে আসবে? উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।