Hidden Stories (বাংলা)

অভিষেকের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়, মামলা ছাড়লেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সই জালিয়াতি মামলা ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজই সন্ধ্যে ৬-টার মধ্যেসিআইডি-র কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ  গ্রহণ করতে পারবে না তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের নির্দেশে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্বস্তি বেড়েছে অন্য কারণে। এ দিন তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। পাশাপাশি কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘‘ওর জন্যই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’[TECHTARANGA-POST:9868]এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তৃণমূলের অন্দরে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই দলের একাংশে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে এমন কোনও বিভেদের কথা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে যে মামলাকে কেন্দ্র করে চর্চায়, তা তথাকথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি তদন্ত। অভিযোগ, বিধানসভা সংক্রান্ত একটি চিঠিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই মামলায় সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার তলব করেছে। তিনি সমনের বৈধতা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।মামলার তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিআইডি তৃণমূলের বিভিন্ন দফতরে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি সংগ্রহ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাটির পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:9863]এই পরিস্থিতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিছক আইনি কৌশল, নাকি এর পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে— তা নিয়েই জল্পনা তীব্র হয়েছে। শুধু কল্যাণ নন, কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য জুনিয়র আইনজীবীরাও মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, কোনও আইনজীবী ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণে নির্দিষ্ট মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতেই পারেন। তাই ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করার প্রয়োজন নেই।তবুও রাজনীতিতে প্রতীকী বার্তার গুরুত্ব অনেক। ফলে তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে এই ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে আরও আলোচনা উসকে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।[TECHTARANGA-POST:9869]আসলে এই সই-কাণ্ড কী?বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতায় পড়েছে তৃণমূল। অভিযোগ, ৬ মে পরিষদীয় দলের বৈঠকে পদাধিকারী নির্বাচন না করে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠি বিধানসভায় জমা দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।এরপর ১৯ মে ফের বৈঠক করে বিধায়কদের সই নেওয়া হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ, সেই সই ৬ মে-র কার্যবিবরণীতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই সই-কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।[TECHTARANGA-POST:9866]বিশেষ করে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম দাবি করেছেন, ৬ মে তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না এবং ওই দিনের নথিতে থাকা সই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, কাউকে জোর করে সই করানো হয়নি এবং বাহারুল নিজেই জানিয়েছেন, দেখানো সইটি তাঁর নয়। তদন্তে এই বিতর্কের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিষেকের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়, মামলা ছাড়লেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার