Nepal Disaster: নেপালে থামল নিখোঁজদের খোঁজার কাজ, ১৮৯ ভারতীয়-সহ এখনও নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি, পুনর্বাসনের দিকেই মনোযোগ বালেন্দ্র সরকারের
কাঠমান্ডু: আশার শেষ আলোটুকুও মনে হয় নিভে গেল হিমালয়ের কোলে! প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ ক্ষত বুকে নিয়ে ৪০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সবরকম তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করল নেপাল সরকার। যে নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার জন্য দিন গুনছিলেন হাজার হাজার মানুষ, তাঁদের জন্য রইল শুধুই অনন্ত হাহাকার। ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের ৪০ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা— অলৌকিক কোনো ঘটনার সম্ভাবনা আর অবশিষ্ট নেই। ফলে এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান চালানোর বদলে বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের দিকেই সমস্ত মনোযোগ ও শক্তি দিতে চাইছে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সরকার।গত ২৬ আগস্ট মধ্য নেপালে নেমে এসেছিল সেই অভিশপ্ত দুর্যোগ। ফুঁসে ওঠা ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর করাল গ্রাসে চোখের নিমেষে তছনছ হয়ে যায় সুবিশাল জনপদ। একের পর এক বসতবাড়ি, সেতু, দোকানপাট ও প্রশাসনিক ভবন মাটির সাথে মিশে যায়। সেই ভয়াল বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত ১,৪৫৫ জনের দেহ উদ্ধার হলেও এখনও পর্যন্ত ৫,২৮৫ জন মানুষের কোনো হদিস মেলেনি। নিখোঁজদের এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন অন্তত ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক। শুধু নেপালই নয়, এই ধ্বংসলীলা স্পর্শ করেছিল তিব্বত সীমান্তকেও, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। এছাড়া বিশ্বের ৩৬টি দেশের প্রায় ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটক এই ভয়াবহ প্লাবনে চিরতরে তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাঁদের খোঁজ আজও মেলেনি।সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্ধারকাজে ইতি টানার এই চরম সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি (এনডিআরআরএমএ)-র প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক কর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এত দিন পর কাদামাটি ও পাথরচাপা পড়ে থাকা মানুষগুলোর আর বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। এই চরম বাস্তবকে মেনে নিয়েই নেপাল প্রশাসন উদ্ধারকাজের সমাপ্তি ঘটিয়ে দ্রুত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের পথে এগোনোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সরকারি ভাবে উদ্ধারকাজ থামলেও, হাজার হাজার পরিবার আজও নদীপাড় ও ধ্বংসস্তূপের দিকে চেয়ে প্রহর গুনছে তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের অন্তত একটুখানি স্মৃতির আশায়।[TECHTARANGA-POST:13377]