কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদল হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিতে জেরবার ঘাসফুল শিবির। এবার পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হলো আনন্দপুর এলাকার কুখ্যাত ত্রাস তথা পলাতক তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের অন্যতম প্রধান শাগরেদ সুজিত পাল ওরফে ‘বচ্চন’কে। কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি এবং হকারদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত বচ্চনকে কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে জালে তোলে পুলিশ। তবে আসল নাটকটি তৈরি হয় শুক্রবার, যখন ধৃত বচ্চনকে আনন্দপুর থানা থেকে বের করা হয়। থানার বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে বসেছিলেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। পুলিশ সুজিতকে বাইরে আনতেই ভিড়ের মধ্য থেকে মুহুর্মুহু উড়ে আসতে থাকে ডিম এবং টম্যাটো। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তীব্র উত্তেজনার মাঝে ধৃতকে প্রিজন ভ্যানে তুলতেও কালঘাম ছোটে পুলিশের। শেষমেশ কোনওরকমে তাঁকে গাড়িতে তুলে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন আধিকারিকরা।[TECHTARANGA-POST:9850]অন্য দিকে, জোড়া এফআইআর-এর জেরে এবং পুলিশের কড়া চাপে পড়ে বর্তমানে বেপাত্তা কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১২ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। তাঁর ফোনও ‘সুইচড অফ’। তবে তাঁর খোঁজে তল্লাশি জারি রেখে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। ওড়িশা সীমান্তের দিকে যাওয়ার পথে নাকা চেকিংয়ের সময় সুশান্ত ঘোষের বিলাসবহুল গাড়িটি আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই গাড়িতে কাউন্সিলরের পরিবার সওয়ার ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুশান্তের বিশ্বস্ত গাড়ির চালককে, যাঁর বিরুদ্ধেও এলাকায় তোলাবাজির একাধিক মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। চালককে জেরা করে কাউন্সিলরের বর্তমান অবস্থান জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।রাজভবন অভিযানে উত্তেজনাকাউন্সিলরের অন্তর্ধানের পরেই তাঁর আনন্দপুরের কার্যালয়ে চড়াও হয়েছিলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। আর সেই কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতেই সবার চোখ চড়কগাছ! স্রেফ একটি রাজনৈতিক অফিস নয়, সেটিকে রীতিমতো এক বিলাসবহুল ‘মায়াপুরী’ বানিয়ে রেখেছিলেন সুশান্ত ঘোষ। অফিসের ভেতরেই সন্ধান মিলেছে একটি রাজকীয় বেডরুম বা শোওয়ার ঘরের, যেখানে রয়েছে বিশালাকার খাট এবং সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এটাচড ওয়াশরুম। সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করে একটি পার্টি অফিসের ভেতরে কেন এমন গোপন বিলাসবহুল ঘর তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখন গোটা এলাকায় জোর চর্চা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার