কলকাতা: নিট আন্দোলন ঘিরে কলকাতার ধর্মতলায় ছড়ানো নজিরবিহীন তাণ্ডব ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চরম সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার এই ইস্যুতে মুখ খুলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ধৃতদের মধ্যে একজনও ছাত্র নয়, এরা মূলত জামাতি ও মৌলবাদী চক্রান্তকারী, যারা ভারতকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে। এই ধরনের দুষ্কৃতীদের কড়া হাতে দমন করতে পুলিশকে ইতিমধ্যেই গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলের আড়ালে একদল সমাজবিরোধী যে হিংসা ও তাণ্ডব চালিয়েছে, তার জেরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি—অর্থাৎ মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলিতে যুক্ত করা হয়েছে কড়া গুন্ডাদমন আইন। তদন্তে নেমে লালবাজার এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের অনেকেই ঘটনার পরপরই ভিনরাজ্যে চম্পট দেওয়ার মতলব এঁটেছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ধৃতরা কেউই আসল আন্দোলনকারী ছাত্র নয়। সাংবাদিকদের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিধানসভায় যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই অনুযায়ীই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ায় এই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে প্রবল রাগ তৈরি হয়েছে। খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়া, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র বাতিল কার্যকর করা এবং শব্দদূষণ রোধ ও পশু সংরক্ষণ আইন বলবৎ করার কারণে একদল সমাজবিরোধী আক্রোশ মেটাতে এই অশান্তি ঘটিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, “অবৈধ সুযোগসুবিধা বন্ধ হওয়াতেই এদের এত যন্ত্রণা। এরা ছাত্র সেজে রাজনীতি করতে এসেছিল, কিন্তু গুন্ডাদমন আইনেই এদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।”
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন