কৃষ্ণনগর: হাসপাতালের বন্ধ বাথরুমের দরজার ওপারে এমন এক নিস্তব্ধতা জমে ছিল, যা ভাঙতেই কেঁপে উঠলেন কর্মী থেকে শুরু করে অন্য রোগীরা। দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল চরম ভয়ঙ্কর দৃশ্য—সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে এক ভর্তি থাকা রোগীর দেহ! শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে রবিবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা চত্বরে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম তপন ঘোষ (৬০)। তিনি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত অঞ্জনাপাড়ার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ওই প্রবীণ ব্যক্তি। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শনিবার সকালেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ওয়ার্ডের আশেপাশের অন্য রোগীরা জানিয়েছেন, রবিবার সকালে নিজেই বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন তপনবাবু। বেশ কিছুক্ষণ পার হয়ে গেলেও বেডে না ফেরায় খোঁজ শুরু হয়। হাসপাতালের কর্মীরা বাথরুম ভেতর থেকে আটকানো দেখে একাধিকবার ধাক্কা মারেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ বাড়ায় বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙা হয়। ভিতরে ঢুকতেই তপনবাবুকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পৌঁছতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য দেখে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তার নজরদারি এড়িয়ে রোগী কীভাবে বাথরুমে গিয়ে এমন পদক্ষেপ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:12587]হিডেন স্টোরিজ নিউজ