ওয়াশিংটন: ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পঁচিশ বছর পূর্তিতে বিস্ফোরক নথি সামনে আনল আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। গোপনীয়তার আইনি মেয়াদ শেষে প্রকাশিত ৭০টিরও বেশি গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ৯/১১-র বহু আগেই ভারতে রক্তক্ষয়ী হামলার নীল নকশা তৈরি করেছিল আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন। ভারতকে শুধু নিশানাই করেনি, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার মিত্রদেশ গুলিতে জঙ্গি জাল ছড়িয়ে দিয়েছিল এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন।
ক্লিন্টন-বুশকে দেওয়া নথিতে ভারতের নাম
সিআইএ-র তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য তৈরি করা এক শতাধিক পৃষ্ঠার গোয়েন্দা রিপোর্টে বিন লাদেনের অভ্যন্তরীণ কৌশলের এই ছবি ধরা পড়েছে। ১৯৯৮ সালের ২৮ অগস্টের একটি রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এখনও উদ্বেগের’। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ভারত ছাড়া পাকিস্তান, মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়াকে টার্গেট করেছিল আল কায়দা।
মূলত ভারতে আমেরিকার উপস্থিতি, দূতাবাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ততদিনে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে শিকড় ছড়িয়েছিল লাদেনের নেটওয়ার্ক। ফলে ভারতে হামলা চালিয়ে কেবল এশীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নয়, বরং ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কোণঠাসা করাই ছিল আল কায়দার মূল উদ্দেশ্য। তবে সুরক্ষার স্বার্থে ওই নথির সংবেদনশীল স্থান গোপন রাখায়, ভারতের ঠিক কোন শহর বা কোন্ সময়সূচি লাদেনের টার্গেটে ছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।
বারবার সতর্কবার্তা, তাও মেলেনি প্রতিকার
প্রকাশিত ৭১টি নথিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে আল কায়দার আকাশপথে হামলার আশঙ্কার কথা একাধিকবার মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। ২০০১ সালের ৬ অগস্ট— অর্থাৎ ৯/১১-র ঠিক এক মাস আগে প্রেসিডেন্ট বুশকে দেওয়া ব্রিফিংয়ের শিরোনামই ছিল, ‘বিন লাদেন আমেরিকায় আঘাত হানতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। সেখানে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আল কায়দা নেটওয়ার্ক এবং অপহৃত বিমান দিয়ে হামলার সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তা কেন এড়ানো গেল না, তা নিয়ে নতুন করে মার্কিন অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অবশেষে ২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বর সেই ভয়াবহ হামলা বাস্তবায়িত হয়, যেখানে অপহৃত চারটি বিমানের হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধূলিসাৎ হয় এবং পেন্টাগন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। সিআইএ-র নথি প্রমাণ করছে, এই মহা-সন্ত্রাসের আগেই ভারতের ভূখণ্ডও ছিল লাদেনের মারাত্মক কৌশলের অন্যতম প্রধান নিশানায়।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
বিষয় : HiddenStoriesNews

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন