বাংলা থেকে দূর হবে দুর্নীতি ও হিংসা, বারাসতে বার্তা বোসের
বারাসত: “বন্দে মাতরম কেবল ভারতের রাষ্ট্রীয় গান নয়, এটি ভারতের আত্মার স্পন্দন। এই গানই ভারতীয়দের স্বাধীন সত্ত্বার অধিকার দাবি করতে উদ্বুদ্ধ করে।” বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই দেশপ্রেমের বার্তা দিলেন রাজ্যপাল ড. সি ভি আনন্দ বোস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সদ্য জারি করা নির্দেশিকা — যেখানে সরকারি অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে — সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “এই গানটি অত্যন্ত উদ্দীপনাময়। ব্রিটিশ আমলেও মানুষ প্রকাশ্যে এটি গাইতেন। এখন আমরা বন্দে মাতরমের সেই মাহাত্ম্য নতুন করে আবিষ্কার করছি।”[TECHTARANGA-POST:6440]এছাড়াও, এদিন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের কণ্ঠে ঝরে পড়ে উদ্বেগের সুর। বাংলাকে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলার শরীরের দুটি ক্যানসার হল — হিংসা এবং দুর্নীতি। এই দুটি অশুভ শক্তি একত্রে মিলে রাজ্যকে গ্রাস করছে। আমরা এক ‘ভয়মুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত’ বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি।”মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে এনআইএ তদন্তের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে রাজ্যপাল সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি স্পষ্ট জানান, “এগুলি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। রাজ্যপাল হিসাবে আমি রাজনীতির ভিতর ঢুকতে চাই না।”ভোটারতালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গে রাজ্যপাল ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসআইআর একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া, যা সুপ্রিম কোর্টও সমর্থন করেছে। গণতন্ত্রে কিছু ভুলভ্রান্তি বা মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে যেকোনও সমস্যার সমাধান দ্রুত খুঁজে বের করতে সক্ষম।” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “এই নির্বাচন আবারও মানুষের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। সাধারণ মানুষ জানেন, তাঁদের কী করতে হবে এবং তাঁরা সেই অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেবেন।”অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রদের উৎসাহিত করে আচার্য ড. সি ভি আনন্দ বোস বলেন, “বাংলার ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তারা একদিন বিশ্বজয়ী হবে।” একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাজভবন এখন ‘লোক ভবন’-এ পরিণত হয়েছে। যেখানে তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ত্রুটিগুলি নিয়েও তিনি পরোক্ষভাবে কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।