দার্জিলিং চায়ের নামে জালিয়াতি রুখতে কড়া টি বোর্ড! নেপালের চা ঢুকলেই কড়া পরীক্ষার নির্দেশ
জলপাইগুড়ি: দার্জিলিং চায়ের বিশ্বজোড়া খ্যাতি বাঁচাতে এবার কোমর বেঁধে নামল টি বোর্ড। নেপাল থেকে আসা চায়ের গুণমান পরীক্ষা না করে আর এ দেশে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে না। সপ্তাহের প্রথম দিনেই এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে টি বোর্ড জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ভারতে ঢোকা সমস্ত চায়ের নমুনা পরীক্ষা করে গুণমানের ছাড়পত্র মিললে তবেই তা বাজারে পাঠানো যাবে।[TECHTARANGA-POST:8990]দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের চা বাগান মালিকদের অভিযোগ ছিল, নেপাল থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের চা সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢুকছে। এই চা লোগো বা ব্র্য্যান্ডিং ছাড়াই দেশি বাজারে প্রবেশ করে এবং পরে অসাধু ব্যবসায়ীরা সেটিকে ‘দার্জিলিং টি’ হিসাবে তকমা দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করত। শুধু ভারতের খোলা বাজারে নয়, বিদেশেও দার্জিলিং চায়ের নাম ভাঙিয়ে এই নিম্নমানের নেপালি চা রফতানি করা হচ্ছিল! এর ফলে বিশ্ববাজারে বাংলার পাহাড়ের চায়ের ঐতিহ্য ও সুনাম দুই-ই সঙ্কটে পড়ছিল।[TECHTARANGA-POST:8956]টি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গের চা মহলে। বাগান মালিকদের মতে, এত দিন নেপালের চায়ের গুণমান যাচাইয়ের কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সেই সুযোগ নিত একাংশ অসাধু কারবারি। এতে একদিকে যেমন বাগানের শ্রমিক ও মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। এবার কড়া পরীক্ষা চালু হলে নিম্নমানের চায়ের অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে এবং দার্জিলিং চায়ের কৌলীন্য বজায় থাকবে।[TECHTARANGA-POST:8942]বিশেষজ্ঞদের দাবি, চায়ের গুণমান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়ায় নেপালের চা আর সহজেই দার্জিলিং চায়ের প্যাকেটে ঢুকতে পারবে না। টি বোর্ডের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দেশীয় ক্রেতারা সঠিক মানের চা পাবেন, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতীয় চায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। এখন থেকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে আসা প্রতিটি চায়ের ট্রাক বা কনসাইনমেন্টকে কড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।