এবার মাদ্রাসাতেও বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! ‘আর তোষণ নয়’, কড়া বার্তা দিয়ে নির্দেশিকা শুভেন্দু সরকারের
কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত সাধারণ স্কুলের পর এবার এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাতেও ক্লাস শুরুর আগে সকালের প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হল। ইতিমধ্যেই মাদ্রাসা শিক্ষাদফতরের তরফে এই মর্মে একটি কড়া ও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট উচ্চ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এই নির্দেশনামা সামনে আনা হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9333]নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারপোষিত এবং সরকার স্বীকৃত মাদ্রাসায় পঠনপাঠন শুরু হওয়ার আগে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের বাধ্যতামূলকভাবে এই রাষ্ট্রগীত গাইতে হবে। পূর্বের এই সংক্রান্ত যাবতীয় পুরনো সিদ্ধান্ত ও নিয়ম বাতিল করে এই নির্দেশিকা অবিলম্বে এবং দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে দফতর।[TECHTARANGA-POST:9320]উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের সমস্ত সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সোমবার থেকেই সমস্ত স্কুলে এই নিয়ম চালু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার পরেই শিক্ষাদফতর বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে বন্দে মাতরম গাওয়া শুরু হয়। এবার সেই একই নিয়মের আওতায় আনা হল রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোকেও। সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।[TECHTARANGA-POST:9274]তবে এই সমস্ত বিতর্ককে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। এহেন সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, বিকৃত ইতিহাসকে বদলে ফেলার এটাই সঠিক সময়। কেন্দ্রের তরফে অনেক আগেই এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হলেও, তৎকালীন সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে তা কার্যকর করতে দেয়নি, কিন্তু এবার সঠিক তথ্য ও রাষ্ট্রবাদকে সামনে আনা হবে। [TECHTARANGA-POST:9234]এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে সরকারের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপির তরফে কড়া বার্তা দিয়ে লেখা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ও অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠার বার্তা দিচ্ছে। আর কোনও তোষণের রাজনীতি বা তুষ্টিকরণ নয়, এবার থেকে সবার জন্য সমান নীতি প্রযোজ্য হবে।” সরকারের এই নতুন ফরমানের পর শিক্ষা ক্ষেত্র তথা রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।