লখনউ: যাবতীয় দোলাচল, মান-অভিমান এবং নাটকের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে ভাইপো আকাশ আনন্দকে সরাসরি দল থেকেই বহিষ্কার করলেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। একদা যাঁকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করে দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ পদে বসিয়েছিলেন ‘বহেনজি’, সেই ভাইপোর সঙ্গেই এবার সমস্ত রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি। গত কয়েক বছরে আকাশকে পদে আনা এবং সরানোর এই নাটক অন্তত পাঁচবার প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় রাজনীতি। তবে এবার আর কোনো পদচ্যুতি নয়, বহুজন সমাজ পার্টি থেকে আকাশ আনন্দকে পাকাপাকিভাবে ছেঁটে ফেলে দলের রাশ পুরোপুরি নিজের হাতেই ধরে রাখলেন মায়াবতী।বিদেশে উচ্চশিক্ষিত এবং বাগ্মী তরুণ নেতা হিসেবে ২০২৩ সালে দলের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর পদে বসে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন আকাশ আনন্দ। উত্তরপ্রদেশ বাদে দেশের অন্যান্য রাজ্যে সংগঠন মজবুত করার দায়িত্ব পেয়ে নিজের ছাপও রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আকাশের এই উল্কার মতো জনপ্রিয়তাই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়ায়; দলের প্রবীণ নেতাদের কুনজরে পড়ার পাশাপাশি হয়তো মায়াবতী নিজেও ভাইপোর দ্রুত ক্ষমতাবৃদ্ধিতে লাগাম টানতে চেয়েছিলেন। যার জেরে দফায় দফায় পদ খোয়ানো এবং ফিরে পাওয়ার মতো টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল আকাশকে।তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আকাশের শ্বশুর তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ অশোক সিদ্ধার্থ। মায়াবতীর সন্দেহ ছিল, ভাইপোকে পিছন থেকে কলকাঠি নেড়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁর শ্বশুরই। দিন দুই আগে মায়াবতী সাফ শর্ত দিয়েছিলেন, অশোক সিদ্ধার্থ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সন্ন্যাস নিলে তবেই ভাইপোকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর কথা ভাবা হবে। সেই নির্দেশ মেনে নিয়ে অশোক সিদ্ধার্থ রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণা করলেও শেষ পর্যন্ত বরফ গলেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহিষ্কারের কারণ স্পষ্ট করে মায়াবতী জানিয়েছেন, আকাশ দল এবং দলিত আন্দোলনের বদলে পরিবার ও আত্মীয়তার সম্পর্কেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন; আর যে ব্যক্তি দলের স্বার্থে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করতে অক্ষম, তাঁর হাতে এমন গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।[TECHTARANGA-POST:12499]হিডেন স্টোরিজ নিউজ