চলবে না দু-মুখো নীতি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবার পাক প্রধানমন্ত্রীকে কড়া বার্তার মোদীর
নয়াদিল্লি : বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঞ্চে তখন উপস্থিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রথম সারির আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রপ্রধানদের সাক্ষী রেখে পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে মোদীর এই আক্রমণ স্পষ্টতই ইসলামাবাদকে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা করার এক সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ।দ্বিমুখী নীতির দিন শেষ, কড়া বার্তা দিল্লিরএদিনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী স্পষ্ট জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কোনো ধরনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা সুবিধাবাদী অবস্থান বরদাস্ত করা হবে না। সরাসরি পাকিস্তানের নাম না করলেও, যে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পায়, সেই পাকিস্তানকেই নিশানা করে মোদী বলেন, “সন্ত্রাসবাদের কোনো ভালো বা খারাপ রূপ হয় না। আমাদের একসুরে কথা বলতে হবে। শুধু জঙ্গি দমন করলেই হবে না, সন্ত্রাসবাদের পুরো ইকোসিস্টেম—অর্থাৎ তাদের অর্থসংস্থান, নতুন সদস্য নিয়োগ, মৌলবাদ ছড়ানো এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে হবে।”বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যেভাবে একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তির কথা বলে এবং অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে প্রক্সি ওয়ার বা ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যায়, মোদীর এই বক্তব্য ছিল সেই নীতিকেই আন্তর্জাতিক ফোরামে নগ্ন করে দেওয়ার প্রয়াস। বিশেষ করে, কাশ্মীর উপত্যকায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পাল্টা হিসেবে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপটে মোদীর এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।‘যুদ্ধের ময়দানে সমাধান নেই’: চিন-পাককে বার্তামধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, যেকোনো বিরোধের একমাত্র সমাধান লুকিয়ে রয়েছে আলোচনা ও কূটনীতির মধ্যে। যুদ্ধের ময়দানে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান মেলে না। একই সাথে, চীনের বিতর্কিত ‘চায়না-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (CPEC) যা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ওপর দিয়ে গিয়েছে, তার দিকে ইঙ্গিত করে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বানও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।২০১৭ সালে এসসিও-র পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার পর থেকে ভারতের অবস্থান সর্বদা স্পষ্ট। তবে এবারের বৈঠকে শি জিনপিং ও শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে মোদীর এই মন্তব্য বার্তা দিয়েছে যে, জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ভারত নরম অবস্থান নেবে না।আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোণঠাসা ইসলামাবাদ১০টি সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও এই সংবর্ধিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট আলিয়েভসহ ডজনখানেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এত বড় আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই শাহবাজ শরিফ সরকারকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অস্বস্তিতে ফেলেছে। একদিকে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি, অন্যদিকে মোদীর এই ‘সন্ত্রাস-বিরোধী ট্রাইব্যুনাল’ মার্কা বক্তব্য—সব মিলিয়ে বিশকেকের মঞ্চে পাকিস্তানের ওপর যে চাপের পর্বত তৈরি হলো, তা সামলানো ইসলামাবাদের পক্ষে বেশ কঠিন বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ কূটনৈতিক মহল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ