তমলুক: বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরেও চূড়ান্ত ধস নামল ঘাসফুল শিবিরে। এবার পদত্যাগ করলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা উত্তম বারিক। মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া উত্তম স্পষ্ট জানান, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর আর এই প্রশাসনিক পদে থেকে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন এবং ক্ষমতার হাতবদল ঘটছে, সেই আবহে উত্তমের এই সরে দাঁড়ানো কার্যত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ তৃণমূলের হাতছাড়া হওয়ার প্রক্রিয়াতেই সিলমোহর দিল।[TECHTARANGA-POST:9765]২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের রাশ মমতার হাত ধরে উত্তমের কাঁধেই উঠেছিল। অথচ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই জেলায় পঞ্চায়েত স্তরে গণ-পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে; একের পর এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা দায়িত্ব ছাড়ছেন। কাঁথির বোটসাউড়ি গ্রামের বাসিন্দা উত্তম ২০১১ সালের পরিবর্তনের জমানাতেও একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ৫৯ দিন জেলবন্দি থাকার পর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। গত ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কাঁথি কেন্দ্র থেকেও দলের প্রার্থী হয়েছিলেন উত্তম, কিন্তু সেই প্রচার পর্ব থেকেই তৎকালীন মন্ত্রী অখিল গিরির সঙ্গে তাঁর তীব্র অভ্যন্তরীণ সংঘাত বারংবার প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের পর নিজের হারের জন্য পরোক্ষে অখিল গিরিকেই দায়ী করেছিলেন উত্তম। এবার বিধানসভা ভোটের ভরাডুবির পর দল যখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই কোনো রাখঢাক না রেখে উত্তমের এই ইস্তফা পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার