যুদ্ধ থামানোর চাবিকাঠি ইরানের হাতে? ইজরায়েল ও আমেরিকার সামনে ‘তিন দফা’ শর্ত রাখলেন পেজেশকিয়ান
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের গন্ধের মাঝেই এবার যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত। তবে শান্তির পথে হাঁটতে গেলে মানতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত— স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানে যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে তিন দফা শর্তের কথা ঘোষণা করা হলো। খোদ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।[TECHTARANGA-POST:7219]ইরানের তিন শর্ত:তেহরানের দাবি, এই সংঘর্ষ শুরু করেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। তাই শান্তি ফেরাতে হলে নিচের তিনটি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক:১. ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা: ইরানকে তার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অধিকার থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না।২. ক্ষতিপূরণ: গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে ইরানের যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।৩. আক্রমণ না করার গ্যারান্টি: ভবিষ্যতে আমেরিকা বা ইজরায়েল আর কখনো ইরানের ওপর হামলা চালাবে না— এই মর্মে লিখিত বা নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।[TECHTARANGA-POST:7217]অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর দাবি, "ইরানে যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হবে এবং আমরা যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছি।" তবে ট্রাম্প জয়ের দাবি করলেও পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে আমেরিকারও অন্তত ৬ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রায় ১৭টি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7213]ইরান শান্তির প্রস্তাব দিলেও আমেরিকা বা ইজরায়েল এই শর্তে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইজরায়েলকে ভবিষ্যতে আক্রমণ না করার জন্য আমেরিকা কতটা বাধ্য করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল। আপাতত পেজেশকিয়ানের এই বার্তা এবং ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ শেষের’ ইঙ্গিতের পর বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।