কোন্নগর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের সংগঠন। এবার সেই চরম ভাঙনের আবহেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে একেবারে সন্ন্যাস নেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী।[TECHTARANGA-POST:9742] বৃহস্পতিবার হুগলির কোন্নগরের কানাইপুরে নিজের বাসভবনে বসে রাজনীতি ছাড়ার এই বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত জানান তিনি। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে সামান্য ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন স্নেহাশিস বাবু। তারপর থেকেই তিনি একপ্রকার অন্তর্ধানে চলে গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সাম্প্রতিক কোনও বৈঠক কিংবা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধরনা মঞ্চেও তাঁর দেখা মেলেনি। অবশেষে আজ নীরবতা ভেঙে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মাঠে-ময়দানে নেমে আর কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না তিনি।[TECHTARANGA-POST:9745]নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে ক্ষোভ ও অভিমান উগড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি সাফ জানান যে, বর্তমান কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে স্নেহাশিসের দাবি, অভিষেক তাঁর মতো চেষ্টা করলেও জেলাস্তরের নেতাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে মস্ত বড় খামতি ও ঘাটতি ছিল। দলের অন্দরে বিধায়ক ও সাংসদদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পরিসর খুবই সীমিত ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সাধারণ কর্মী তো দূর, বহু বড় নেতাও সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছতে পারতেন না। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক যেভাবে বিদ্রোহী হয়ে নিজেদের মতো করে বিরোধী দলনেতা বেছে নিয়েছেন, তা আসলে দলের ভেতরের এই দীর্ঘদিনের দমবন্ধ করা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।[TECHTARANGA-POST:9737]রাজনীতির নামে ব্যক্তিগত কুৎসা ও অশালীন ভাষার ব্যবহারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁর মতে, আজ একজনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করো তো কাল অন্যজনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করো— এই নোংরা সংস্কৃতি তিনি পছন্দ করেন না। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের উন্নয়ন। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই বিজয়ী বিজেপি শিবির তথা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনি। প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি, বাংলার মানুষ শুভেন্দু অধিকারীকে ভোট দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত লড়াকু নেতা এবং মানুষের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই আজ ক্ষমতায় এসেছেন। তাই রাজ্যের নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। মানুষ যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে রাজ্যে পরিবর্তন এনেছে, সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন নতুন শাসক শিবিরেরই, এই কথা বলে শুভেন্দুর দলকে শুভেচ্ছাও জানান তিনি। মাঠে না নামলেও আগামী দিনে লেখালেখি ও রাজনৈতিক আলোচনায় নিজেকে যুক্ত রাখবেন বলে জানিয়েছেন স্নেহাশিস।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার