বাম শিবিরে ভাঙন: সেলিমের ‘লাইন’ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতীক উর রহমান, ছাড়ছেন সদস্যপদ
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিল। সিপিএমের ‘তরুণ তুর্কি’ বলে পরিচিত নেতা প্রতীক উর রহমান দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে চিঠি দিয়ে নিজের ইস্তফার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রতীকের এই ‘বিদ্রোহ’ আদতে মহম্মদ সেলিমের কার্যপদ্ধতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধেই এক তীব্র প্রতিবাদ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।রাজ্য সম্পাদককে লেখা চিঠিতে প্রতীক উর রহমান অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু কড়া ভাষায় নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘মানসিক দ্বন্দ্ব’ শব্দবন্ধটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বামপন্থা যখন তাত্ত্বিক শুদ্ধতার কথা বলে, তখন নেতৃত্বের বাস্তব পদক্ষেপের সঙ্গে সেই আদর্শের সংঘাতই প্রতীককে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রতীকের এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত ঘটনা। কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বৈঠক হয়। সূত্রের দাবি, যে হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি এবং মন্তব্য নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁর সঙ্গে সিপিএমের হাত মেলানোর সম্ভাবনা দলের একাংশই মেনে নিতে পারছে না।নিচুতলার কর্মীদের প্রশ্ন, অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে কি বামেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জোট করতে হবে? তবে, শুধু দলের ভিতরেই নয়, বামফ্রন্টের অন্দরেও এই বৈঠক নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে খোদ বিমান বসুকে হস্তক্ষেপ করতে হলেও ক্ষোভের আগুন যে নেভেনি, প্রতীকের ইস্তফা তারই প্রমাণ।সামনে বিধানসভা নির্বাচন। যেখানে ঘর গুছিয়ে ময়দানে নামার কথা, সেখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে লাল শিবিরে। প্রতীক উর রহমানের মতো তরুণ ও লড়াকু নেতার দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সিপিএমের জন্য বড় ক্ষতি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আলিমুদ্দিন যখন নতুন মুখদের সামনে এনে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, তখন প্রতীকের মতো নেতার ‘বেলাইন’ হওয়া দলের নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতীক উর রহমানের এই ‘পত্রবোমা’ আদতে মহম্মদ সেলিমের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি সিগন্যাল। যদি দ্রুত এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করা না যায় বা ক্ষোভের কারণগুলি খতিয়ে না দেখা হয়, তবে নির্বাচনের আগে সিপিএমের অন্দরে আরও বড় ফাটল দেখা দিতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।