Bengal Industrialization: এবার পুরুলিয়াতে তৈরি হবে সেনার গোলাবারুদ! রঘুনাথপুরে মহা তোলপাড়, কার হাত ধরে বদলে যাচ্ছে চিত্র?
পুরুলিয়া: বহু বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও খরা কাটিয়ে এবার পুরুলিয়ার শিল্প মানচিত্রে যোগ হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পালক। রাজ্য সরকারের শিল্প উন্নয়ন নিগমের বড় পদক্ষেপে রঘুনাথপুর শিল্পতালুকে গড়ে উঠতে চলেছে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র বা ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব। অমিত মেটালিক্সের পর এবার ‘জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এই এলাকায় সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়তে চলেছে। রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের রুকনি এলাকায় এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই ২৫৫ একর জমি হস্তান্তরিত করা হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরুলিয়া সফরে এসে এক বছরের মধ্যে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হিসেবেই কলকাতায় আয়োজিত শিবিরের মাধ্যমে ওই সংস্থাকে জমির নথি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই খবরে এখন উচ্ছ্বাসের হাওয়া গোটা রঘুনাথপুর জুড়ে।ইতিহাস বলছে, প্রায় ১৭ বছর আগে বাম আমলে রঘুনাথপুরের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় ইস্পাত কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তখন ‘আধুনিক কর্পোরেশন লিমিটেড’-কে সেই জমি দেওয়া হলেও তারা শিল্প গড়তে ব্যর্থ হয়। এর পর বছরের পর বছর জমি পড়ে থাকায় ক্ষোভ জমছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছিল এলাকার যুবকদের। অবশেষে সেই পড়ে থাকা অধিগৃহীত জমিতেই প্রতিরক্ষা কারখানা তৈরি হতে চলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশাল কর্মসংস্থানের পথ খুলতে চলেছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-গোমো শাখার রুকনি স্টেশন এবং রঘুনাথপুর-চেলিয়ামা সড়কের কাছেই অবস্থান হওয়ায় কাঁচামাল আনা-নেওয়া ও পরিবহণে বাড়তি সুবিধা পাবে এই সংস্থা।তবে রঘুনাথপুর শিল্পতালুকে এই বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি কিছু স্থানীয় ক্ষোভও সামনে আসছে। এলাকার একটি বড় অংশের মানুষ পরিবেশ সংক্রান্ত দূষণ বা ‘রেড ক্যাটাগরি’ কারখানা নিয়ে আশঙ্ক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অমিত মেটালিক্সের মতো সংস্থার বিরুদ্ধে এলাকায় আন্দোলনও হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কারখানা হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের পর পুরুলিয়ার মতো প্রত্যন্ত জেলায় যেভাবে ভারী ও প্রতিরক্ষা শিল্পের আগমন ঘটছে, তাতে আগামী দিনে এই গোটা রঘুনাথপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপরেখা যে আমূল বদলে যাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।[TECHTARANGA-POST:13091]