'মমতা-মোদী একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ!' রায়গঞ্জে বিস্ফোরক রাহুল
রায়গঞ্জ: গত লোকসভা নির্বাচনের সময় দিল্লি দখলের লড়াইয়ে হাত মেলালেও, বাংলার মাটিতে যে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়, তা ফের প্রমাণ করে দিলেন রাহুল গান্ধী। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার মহারণ। তার ঠিক ন'দিন আগে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর সাফ কথা, বাংলায় বিজেপির জন্য কার্পেট বিছিয়ে দিচ্ছে স্বয়ং তৃণমূলই![TECHTARANGA-POST:7984]মঙ্গলবার রায়গঞ্জের জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অপশাসন এবং দুর্নীতির কারণেই আজ বাংলায় বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। তাঁর কথায়, "তৃণমূল যদি নিজের কাজ ঠিক মতো করত এবং হিংসা না ছড়াত, তাহলে এ রাজ্যে বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যেত না। এরা আসলে বিজেপির জন্য রাস্তা সহজ করে দিচ্ছে।" মোদী সরকারের দুর্নীতির পাশাপাশি সারদা, রোজ ভ্যালি-সহ তৃণমূল জমানার একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি স্পষ্ট বলেন, দুর্নীতির দৌড়ে মোদী আর মমতার মধ্যে কোনও তফাৎ নেই![TECHTARANGA-POST:7983]এদিন রাহুলের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল, রাজ্যের জ্বলন্ত ইস্যুগুলি। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "আর জি করের ঘটনায় তৃণমূলের গুন্ডাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। অথচ, সরকার দায় নিচ্ছে না।" বেকার ভাতা নিয়েও কটাক্ষ করেন রাহুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দেওয়া ভাতা প্রকল্পকে বিঁধে তিনি বলেন, "মমতাজি বলছেন ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হচ্ছে, অথচ ভাতার লাইনে দাঁড়িয়ে ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী! এটা প্রহসন ছাড়া আর কী?"[TECHTARANGA-POST:7981]বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্প গৌরব নিয়েও এদিন মুখ খোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, একসময় বাংলা ছিল শিল্পের হাব। কিন্তু, প্রথমে বামফ্রন্ট এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যের শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:7967]উল্লেখ্য, ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের একলা লড়াইয়ের ঘোষণার পরই ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের ফাটল প্রকাশ্যে এসেছিল। খাড়গের পর রাহুলের এই 'আক্রমণাত্মক' অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে - কংগ্রেস আর তৃণমূলের সমঝোতা এখন অতীত। বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের উপর তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলেও এদিন সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।[TECHTARANGA-POST:7973]নির্বাচনের প্রাক্কালে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে নতুন মোড় দিল, তা বলাই বাহুল্য। রায়গঞ্জের সভা থেকে তৃণমূলকে বিঁধে কংগ্রেসের প্রচারের অভিমুখ স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।