বাংলাদেশের জাহাজ লুঠের তেল তৃণমূল নেতার ঘরে! পুলিশের হানায় শৌচালয়ে লুকালেন অঞ্চল সভাপতি!
নামখানা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতি ও কাটমানি রাজের বিরুদ্ধে যে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে, তা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ব্যারেল ব্যারেল চোরাই ডিজেল এবং বস্তা বস্তা সুপারি! আর সেই বাড়িতে পুলিশের হানা দিতেই তৈরি হলো চূড়ান্ত এক ড্রামাটিক পরিস্থিতি। পুলিশ দেখে সটান শৌচালয়ের ভেতর গিয়ে লুকালেন এক তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি! অন্যদিকে, শুধু নামখানাই নয়, নদিয়া থেকে বারুইপুর—রাজ্যের দিকে দিকে শাসকদলের ছোট-বড় নেতাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হচ্ছে আমজনতার হকের সরকারি ত্রাণের পাহাড়। এই বিপুল কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ আচমকাই স্থানীয় তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে এক বিশাল তল্লাশি অভিযান চালায়। আর তাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। নজরুলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৪০ ব্যারেল চোরাই ডিজেল এবং বিপুল পরিমাণ সুপারি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজগুলি থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও সুপারি চুরি করে এনে এই তৃণমূল নেতার বাড়িতেই মজুত করে রাখা হতো। অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম চম্পট দিলেও পুলিশ তাঁর দাদা আনারুল মোল্লাকে আটক করে। তবে সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল বাড়ির শৌচালয়ের ভেতরে। তল্লাশি চালানোর সময় দেখা যায়, নজরুলের বাড়ির বাথরুমের ভেতরে ভয়ে লুকিয়ে রয়েছেন ফ্রেজারগঞ্জের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি প্রসেনজিৎ জানা! গ্রামবাসীদের দাবি, বাড়িতে মজুত রাখা ওই বেআইনি জিনিসপত্র গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্যই সেখানে এসেছিলেন প্রসেনজিৎ, কিন্তু পুলিশ চলে আসায় পালাতে না পেরে বাথরুমে সেঁধিয়ে যান। পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে টেনে বার করে আটক করে। এই খবর চাউর হতেই নজরুলকে গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষ।নজরুলের বাড়ি থেকে এই তেল চুরির ঘটনার সমান্তরালেই শনিবার সাতসকালে আরও দুই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার কীর্তি ফাঁস হয়েছে। নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা বিমানকৃষ্ণ সাহাকে শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ এবং শনিবার সকালে তাঁকে সরকারি ত্রাণ চুরির দায়ে গ্রেফতার করা হয়। বিমানের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশের একটি ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য আসা গুচ্ছ গুচ্ছ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। অভিযোগ, গরিব মানুষদের বিলি না করে সেগুলি নিজের ক্লাবে আটকে রেখেছিলেন তিনি। পুলিশ যখন বিমানকৃষ্ণকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাস্তায় ভিড় জমানো শয়ে শয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জুতো পেটা করতেও ছাড়েননি।একই ছবি দেখা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরেও। সেখানে অবৈধভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী ঘরে মজুত করে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য সুধাংশু নস্কর ওরফে ভাস্করকে। শনিবার ভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ সুধাংশুর বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৭০টি সরকারি ত্রিপল, ৩০টি কম্বল এবং ছয়টি সিল করা দামি বাসনপত্রের প্যাকেট। কেন এই বিপুল সরকারি সাহায্য তাঁর নিজের বাড়িতে রাখা ছিল, তার কোনও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি ওই তৃণমূল নেতা। ফলে তড়িঘড়ি তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে, তেল চুরি থেকে শুরু করে গরিবের কম্বল ও ত্রিপল আত্মসাতের এই একের পর এক ঘটনায় রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত হাহাকার পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9643]হিডেন স্টোরিজ নিউজ