একটা ছোট রেস্তরাঁ, মাত্র ন’টি আসন। ব্যবসা নেই, ঋণের বোঝা ক্রমশ বাড়ছিল। একটা সময় দোকান বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মালিক দুই ভাই। কিন্তু সেই সময়েই বদলে গেল তাঁদের ভাগ্য। এর পিছনে রয়েছে ছোলে ভাটুরের কাহিনি। তা পৌঁছে গিয়েছিল বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার বাড়িতে। আর তারপর অনুষ্কার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টেই বদলে গেল মুম্বইয়ের চেম্বুরের ছোট্ট খাবারের দোকান ‘দিল্লি সে’-র ভাগ্য। [TECHTARANGA-POST:13197]ঘটনাটি ঠিক কী? ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে চেম্বুরে ‘দিল্লি সে’ শুরু করেছিলেন জসপাল সিং খালসা ও মহিন্দর সিং খালসা। মাত্র ২৫০ বর্গফুটের জায়গায় তিনটি টেবিল আর ন’টি আসন নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবসায় ভাটা শুরু হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বিক্রি কমতে শুরু করে। দুই ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী, ঋণ হয়ে গিয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ টাকা। দোকান বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন তাঁরা।ঠিক সেই সময়ই গল্পে আসে নতুন মোড়। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অভিষেক উপমন্যু ‘দিল্লি সে’-তে এসে ছোলে ভাটুরে খান। দোকানের মালিকেরা প্রথমে তাঁকে চিনতেই পারেননি। কিন্তু পরে হঠাৎ দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে দেখে তাঁরা অবাক হয়ে যান। পরে জানতে পারেন, অভিষেক নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রেস্তরাঁটির খাবারের প্রশংসা করে সুপারিশ করেছিলেন। অভিষেকের সেই পোস্টই পৌঁছে গিয়েছিল অনুষ্কা শর্মার কাছে। এরপর বিরাট-অনুষ্কার জুহুর বাড়ি থেকে ‘দিল্লি সে’-তে দু’প্লেট ছোলে ভাটুরের অর্ডার যায়। খাবার খাওয়ার পর অনুষ্কা শর্মা নিজের সোশাল মিডিয়ায় রেস্তোরাঁটিকে ট্যাগ করে লেখেন, “অবশেষে মুম্বইতে একদম দিল্লির মতো ছোলে ভাটুরে খুঁজে পেলাম।” [TECHTARANGA-POST:13195]জসপালের কথায়, অনুষ্কার পোস্টের পর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই দোকানের সামনে বিপুল ভিড় জমে যায়। এত বেশি অর্ডার আসতে শুরু করে যে ছোট্ট রান্নাঘর সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। এর পর থেমে থাকেনি ‘দিল্লি সে’-র যাত্রা। রেস্তরাঁটির এখন মুম্বই ও নবি মুম্বইয়ে একাধিক শাখা রয়েছে। মালিকদের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ প্লেট ছোলে ভাটুরে বিক্রি হয় এবং মাসিক বিক্রি পৌঁছেছে প্রায় ২ কোটি টাকায়।