সীমান্তে ভারত বসাল নতুন কাঁটাতার, ওপার থেকে ধেয়ে এল ‘হাসিনা’ হুঙ্কার! কী চাল চালল ঢাকা?
ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে ভারতের নতুন করে কাঁটাতার বসানোর তৎপরতা শুরু হতেই কি হঠাৎ কূটনৈতিক চাল বদলাল বাংলাদেশ? বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের অরক্ষিত সীমান্তজুড়ে যখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জমি অধিগ্রহণ ও কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়াদিল্লির ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিল ঢাকা। এতদিন চুপ করে থাকলেও, এবার ক্ষমতাচ্যুত তথা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি পথে দেশে ফিরিয়ে আনার হুঁশিয়ারি দিল তারেক রহমানের নতুন সরকার। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের একটি সাম্প্রতিক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9435]রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত জট কাটিয়ে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর জন্য জমিদান এবং সীমান্ত সিল করার প্রক্রিয়া। আর বঙ্গে ভারতের এই আগ্রাসী সীমান্ত নীতির পাল্টা হিসেবেই ঢাকা এখন ‘হাসিনা ইস্যু’ খুঁচিয়ে তুলতে চাইছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে সোজা নয়াদিল্লিতে চলে আসেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজাও ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু এতদিন তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে তারেক সরকার সরাসরি কোনও বড় পদক্ষেপ না করলেও, সীমান্তে ভারতের নতুন বেড়া আড়ালে আসতেই ঢাকার সুর এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9430]সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরতে চান, তবে আইন মেনেই ধাপে ধাপে কাজ হবে। তাঁকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনও আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনি পথেই নয়াদিল্লির কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাতে পারে তারেক রহমানের সরকার। মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়েও কিছুদিন আগে হাসিনা নিজেই দ্রুত দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, আর সেই মন্তব্যকে ঢাল করেই এবার সুর চড়াল ঢাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ করে দিয়েছেন, পূর্বতন প্রধানমন্ত্রীর বিচার আইন মেনেই করবে বর্তমান প্রশাসন, এবং ভারতের কাছে তাঁকে ফেরত চাওয়ার জন্য যাবতীয় আইনি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9408]প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গড়ার পর নয়াদিল্লি তথা কলকাতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ঢাকা থেকে যেমন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছিল, তেমনই আওয়ামি লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাও শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই শুভেচ্ছার রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সীমান্ত নীতি বনাম প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক অদৃশ্য স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। একদিকে অরক্ষিত সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া ভারত, অন্যদিকে হাসিনাকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ভারতের ওপর ভূ-রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে বাংলাদেশ। দিল্লির দরবারে আশ্রয় নেওয়া হাসিনাকে ফেরত পেতে ঢাকা কতটা আইনি চাপ তৈরি করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।